ইশা ছাত্র আন্দোলন যা অর্জন করতে পেরেছে।

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯
ইশা ছাত্র আন্দোলন যা অর্জন করতে পেরেছে।

হুসাইন আল আজাদ:

সত্যের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধ’ এর মধ্যেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব নিহীত। এ কাজ সাধ্যানুযায়ী সর্বাত্মকভাবে আঞ্জাম দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। বিশেষ করে ছাত্রসমাজ এ কাজের যোগ্য সৈনিক কারণ ছাত্রসমাজই দেশ ও জাতির সক্রিয় ও কার্যকর জনশক্তি। এরা দেশের অমূল্য সম্পদ, ভবিষ্যত কর্ণধার। ছাত্রদের ক্লান্তিহীন শ্রম, অপ্রতিরোধ্য শক্তি এবং তীক্ষ্ম মেধার সঠিক চর্চা ও প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে দেশের গতি-প্রকৃতি, সুখ-সমৃদ্ধি তথা জাতির আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। ছাত্রদের শ্রম দেশগড়ায় ও মানব কল্যাণে প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের শক্তি অন্যায়-অবিচার-জুলুম তথা বাতিলের বিরুদ্ধে আর তাদের মেধা সত্য অন্বেষণ, দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার মাধ্যমেই সার্থক হয়ে ওঠে। ছাত্রজীবনই সৎ ও আদর্শ মানুষ হওয়ার প্রথম সোপান।
ছাত্রদের মন ও মানস সর্বদাই অনুসন্ধিৎসু। একজন সচেতন ছাত্রের সম্মুখে থাকে দু’টি প্রশ্ন। একটি জীবন-জিজ্ঞাসা; সে কোথা থেকে এসেছে, এ দুনিয়ার জীবনে তার করণীয় কী এবং পরিণামে তার গন্তব্য কোথায়? দ্বিতীয়টি, যুগ-জিজ্ঞাসা; দেশব্যাপী অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন, হাহাকার, অশান্তি কেন? দেশের স্থায়ী শান্তি এবং মানুষের সার্বিক মুক্তির পথই বা কী? নৈতিক আদর্শ বিবর্জিত বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এসবের উত্তর দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাছাড়া বিদ্যমান জাহিলী সমাজব্যবস্থার ধারক ও বাহকেরা ছাত্রদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে অক্ষম। আমাদের অনেকেই নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে ছাত্রসমাজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারুণ্যের শ্রম, শক্তি ও মেধা ভুল পথে পরিচালনার মাধ্যমে এই বিভ্রান্ত নেতৃত্ব নিষ্কলুষ ছাত্রসমাজের মসৃণ ও নির্মল ঐতিহ্যকে কলঙ্কময় করে তুলছে।
বারবার আমাদের সরকার পরিবর্তনে ছাত্রসমাজের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকলেও শিক্ষাঙ্গণে সুষ্ঠু পরিবেশ কখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হয়নি তাদের দাবি-দাওয়ার বাস্তব প্রতিফলন। যার কারণে ছাত্রদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা। তারা আস্থা হারিয়ে ফেলছে নৈতিকতা বিবর্জিত এই ধর্মহীন শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি। তাদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে যুদ্ধংদেহী মনোভাব। ছাত্রদের এহেন ভূমিকার কারণে সমগ্র জাতি আজ দিশেহারা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে আতংকিত। এরূপ নাজুক ও সংকটময় মুহূর্তের কথা চিন্তা করে দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, পীর মাশায়েখ এবং দীনদার বুদ্ধিজীবীগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কল্যাণচিন্তায় এবং তাদের শ্রম, শক্তি ও মেধার সঠিক চর্চা করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি, আদর্শ মানুষ হওয়ার শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন এবং প্রচলিত জাহিলী সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে পরিপূরক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালনের নিমিত্তে দেশের সর্বস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিশীল, প্রতিভাবান ও প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্রদের নিয়ে ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট, শুক্রবার ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের তরুণ ছাত্রসমাজকে চারিত্রিক ও নৈতিক অধঃপতন থেকে তুলে এনে সিরাতুল মুস্তাকীমে পরিচালিত করে মুসলিম মিল্লাতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের অভিমুখে পরিচালিত করার লক্ষ্যেই তাদের এ অভিযাত্রা।
এই অভিযাত্রার শুরুলগ্ন থেকে এই পর্যন্ত ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন যা যা অর্জন করতে পেরেছে। তা অন্য কোন সংগঠন এখন পর্যন্ত করতে পারে নাই!

★ ভোগবাদে মত্ত তরুণ সমাজকে মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে উদ্বু্দ্ধ করেছে এই দলটি।
★ পাশ্চাত্য জীবন দর্শনে বিভ্রান্ত লাখো তরুণকে সুন্নাহ এর পথে পরিচালিত করেছে।
★ দেশের মুসলিম শিক্ষার্থীরা স্কুল -কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে জাগতিক জীবনের কার্যকরী শিক্ষা অর্জন করলেও সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা না থাকায় তারা মুসলিম জনগোষ্ঠির চাহিদা বুঝতে ব্যর্থ। ফলে দেশে সৎ-দেশপ্রেমিক যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। দুর্নীতি, স্বার্থপরতা অন্যায় জেঁকে বসেছে সমাজের প্রতিটি স্তরে। তারা জাগতিক শিক্ষিতদের বিশাল এক অংশেকে ইসলামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে সমাজের যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছে এই দলটি।
★ কওমিয়া মাদরাসাসমূহ জাতির আর্থ- সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির বাসনা থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। কিন্তু কালের বিবর্তনে কওমিয়া মাদরাসাসমূহ সেই ঐতিহাসিক ভূমিকা ভুলে নিছকই সমাজ বিচ্ছিন্ন একদল আলেম তৈরির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলো। তখন এই দলটি কওমি শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের সেই ঐতিহাসিক কর্তব্য পুনর্জাগরিত করতে পেরেছে।
★ বাংলাদেশি তারুণ্য নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্যকে ভুলে ভিনদেশি সংস্কৃতির অনুকরণে লিপ্ত হয়েছিলো। ভিনদেশি পণ্যের সস্তা বাজারে পরিণত হয়েছিলো। তখন তারুণ্যকে তার নিজস্ব বাঙালি ও মুসলিম ইতিহাস ঐতিহ্যকে স্মরন করে দিয়েছে এই দলটি ।
★ আজকাল ক্যাম্পাসসমূহে মাদক প্রগতিশীলতার প্রতীক, ধুমপান স্মার্টনেসের প্রতীক। এর মোকাবেলায় ক্যাম্পাসে মাদকমুক্ত, শেকড় সন্ধানী একদল তরুণের কাফেলা তৈরি করতে পেরেছে এই দলটি ।
★ বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি মানেই ক্ষমতালিপ্সু সংগঠনের লেজুড়বৃত্তি,দলান্ধতা,কর্মী পালনের নামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের ব্যবসা। এই সংগঠনটি ছাত্র রাজনীতির এই ধারায় পরিবর্তন করেছে।
★ একাত্তর পূর্ব ও পরবর্তী ছাত্র রাজনীতির অর্থেই হলো, মাদক,মাস্তানি,হল দখল, চাঁদাবাজি আর হত্যার রাজনীতি। এই দলটির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আদর্শিক,জ্ঞানবিত্তিক সুস্থধারার -ছাত্র রাজনীতির প্রবর্তন করেছে। আজ দেশে আদর্শিক রাজনীতির এক দিকপাল এই দলটি।
★ এই দলটি দেশের শতভাগ ছাত্রদের নেতৃত্বে পরিচালিত একমাত্র সংগঠন।
★ দেশের ত্রিধারার শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি ধারা থেকে শিক্ষার্থীর সমাবেশ ঘটাতে পেরেছে।
★ আদর্শে অবিচলতা যে কোনো আন্দোলনে অপরিহার্য বিষয় অবিচল আদর্শ মুখিতার -এক অনন্য দৃস্টান্ত এই দলটির।
★ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যায় গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছে।
★ ইসলাম বিরোধী চক্রান্তে ক্ষোবে ফেটে পড়া জনতাকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী ইসলামী হুকুমতের পথ দেখিয়েছে এই দলটি।
★ ইসলামের দর্শনগত রাজনৈতিক ও আধ্যাতিক বিষয়কে জনতার সামনে ফুটিয়ে তুলেছে এই দলটি।
এই দলটি জাতি ও দেশের মানবতার জন্য সবসময় উচ্চকন্ঠে কথা বলেগিয়েছে। এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবদান রেখেছে।

আল্লাহ তুমি এই দলকে কেয়ামত পর্যন্ত তোমার সঠিক পথে রেখো…. আমিন

***ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে…………….

Sharing is caring!