ইশা ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্বশীলকে শিবির আখ্যা দিয়ে মারধর

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০
ইশা ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্বশীলকে শিবির আখ্যা দিয়ে মারধর
  • মুহাম্মদ আল আমিন
  • প্রতিনিধি ভোলা

গতপরশু(০৮/০৯/২০)ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা সদর উপজেলাধীন ১০ নং ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে।বিকাল তিনটার সময় একই ওয়ার্ডের ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক, মোঃ রাসেল(১৭) ইউনিয়ন ছাত্র আন্দোলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জিকির সম্বলিত কিছু কাগজ গাছে লাগানোর জন্য রাস্তায় বের হয়।

এবং কয়েকটি কাগজ সে গাছের সাথে লাগাতে থাকে। ঐ সময় ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি, কালিমুল্লাহ নায়েব(৪০)তার এই কাজে বাধা দেয়। রাসেলকে বলে এগুলো কি লাগাও ? সে বলে আমি জিকির সম্বলিত কাগজ লাগাই। তার উত্তরে সে বলে জিকির তো মসজিদে করবে গাছের সাথে কেন লাগাও ?

এবং এর অর্থ কি বল ? রাসেল বলে আস্তাগফিরুল্লাহ অর্থ হল আল্লাহর কাছে মাফ চাই। নায়েব বলে, তোমাকে এগুলো কে লাগাতে বলেছে ? রাসেল বলে ছাত্র আন্দোলনের হাসান লাগাতে বলেছে। তখন নায়েব উত্তেজিত হয়ে বলে হাসানকে ডাকো। নেতাগিরি করতে আসছো। এক পর্যায়ে তার হাত থেকে হাতুড়ি নিয়ে তাকে মারতে থাকে। পাশের থেকে ইট নিয়ে তার পায়ে মারে। পাশের থেকে একটি কাঁচা গাছের ডালা ভেঙ্গে তাকে প্রহার করা শুরু করে। রাসেল সহ্য করতে না পেরে দৌড় দেয়। পিছন থেকে তাকে শিবির ধর.. ধর.. বলে দৌড়াতে থাকে।

ঘটনাটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভেলুমিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বশীলদের মাঝে জানাজানি হলে। ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা ইসমাইল হোসেনসহ ইউনিয়ন দায়িত্বশীলবৃন্দ এবং ভেলুমিয়া বাজার মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ ওমর ফারুক সাহেব মসজিদে বসেন এবং কালিমুল্লাহ নায়েবকে ফোন দেন। কিন্তু মাওলানা ওমর ফারুক সাহেবের সাথে কালিমুল্লাহ নায়েব অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। একপর্যায়ে সে বলে রাসেলকে আরো মারবো, তারপর বিচারে বসবো।

আজ সকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলার পক্ষ থেকে ঘটনাটি জানতে আমরা স্পটে যাই।
রাসেল একটি দরিদ্র পরিবারের ছেলে। তার পিতার নাম সুলতান ফরাজী। রাসেল চন্দ্র প্রসাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র। ঘটনার দিন জোহরের নামাজের পর মসজিদে আধাঘন্টা কোরআন শরীফ শিখে। তারপর বাড়িতে খানা খেয়ে কাগজগুলো লাগাতে বের হয়। রাসেলের মা পর্দার আড়াল থেকে কেঁদে দিয়ে বলেন, আমরা খুব ভয়ের মধ্যে আছি।

আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, পেশিশক্তি ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। ইউনিয়ন পর্যায়ের এজাতীয় উৎশৃংখল পাতি নেতার কারণে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই ভোলার সচেতন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করছি।

Sharing is caring!