অসহায়দের পাশে দাড়াও; মানব সেবায় এগিয়ে যাও

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ২, ২০২০
অসহায়দের পাশে দাড়াও; মানব সেবায় এগিয়ে যাও

উপ-সম্পাদকীয়:

মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, হাঁসি-কান্না ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। সমাজে যারা অসহায়, গরিব, এতিম, মিসকিন, বিধবা, তারা দু’মুঠো খাবারের জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়ায়। অথচ তারাও মানুষ। তাদের খাওয়ানো, সহযোগিতা করা সকল মানুষের কর্তব্য। মহানবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “গোটা সৃষ্টিজগত আল্লাহ তায়ালার পরিবার। সুতরাং সৃষ্টিকুলের মধ্যে আল্লাহ তায়ালার নিকট সে সর্বাপেক্ষা প্রিয়, যে আল্লাহর পরিবারের সাথে ভালো ব্যবহার করে।

পৃথিবীতে যত কল্যাণমূলক কাজ আছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো #পরোপকার বা অন্যের উপকার করা। বিশেষ করে কোন দুর্যোগ মুহুর্তে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা।

মানব সেবার ‘আইডল’ বিশ্ব নবী মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনীতিহাস তারই প্রমান বহণ করে। নবী কারীম (সা.) মানব সেবার লক্ষ্যে যুবক বয়সে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং আর্ত মানবতার সেবা ও অসহায়দের সাহায্য-সহযোগিতা করে আরবের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।

নবী হওয়ার পর রাসূলের (সঃ) এই মানব সেবামূলক কাজ বিধর্মীদের কাছেও প্রশংসনীয় ছিল। রাসূল (সাঃ)ও সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যরাও নিজে না খেয়ে অসহায়দের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন এবং অন্যের জন্য স্বীয় প্রয়োজনকে ত্যাগ করে ছিলেন। তাই তাদের প্রসংশা বর্ণনা করে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ “আর তারা অন্যকে নিজেদের উপর প্রধান্য দেয়। অথচ তারা নিজেরা ক্ষুধার্ত”৷( সুরা হাশর, ৯)

নবী কারীম (সাঃ) মানুষের সেবা করার জন্য এবং তাদের কষ্ট ও অসুবিধা দূর করার জন্য নিজ উম্মতকে এগিয়ে আসার ব্যাপারে দিক-নির্দেশনা দিয়ে উৎসাহ প্রদান করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব কষ্টসমূহ থেকে কোনো কষ্ট দূর করবে, কিয়ামতের কষ্টসমূহ থেকে আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়াতে ছাড় দেবে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে থাকে । (মুসলিম শরীফ)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘বিধবা ও অসহায়কে সাহায্যকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমার ধারণা তিনি আরো বলেন, “এবং সে ঐ নামাজী ব্যক্তির ন্যায় যার ক্লান্তি নেই এবং সে ঐ রোজাদারের ন্যায় যার বিরতি নেই”। (বুখারী ও মুসলিম)।

হজরত আবু হুরায়রা ( রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ)ইরশাদ করেন, “কেয়ামত দিবসে নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা বলবেন, “হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমার ইয়াদত করোনি (দেখতে আসোনি)”৷ বান্দা বলবে, “হে আমার প্রতিপালক! আপনিতো বিশ্বপালনকর্তা৷ কীভাবে আমি আপনার ইয়াদত করব”? তিনি বলবেন, “তুমি কী জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, অথচ তাকে তুমি দেখতে যাওনি। তুমি কী জান না, যদি তুমি তার ইয়াদত করতে, তবে তুমি তার কাছেই আমাকে পেতে। হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে আহার চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে আহার করাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার রব, আপনি হলেন বিশ্ব পালনকর্তা আপনাকে আমি কীভাবে আহার করাব? তিনি বলবেন, তুমি কী জান না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিল, কিন্তু তাকে তুমি খাদ্য দাওনি। তুমি কি জান না যে, তুমি যদি তাকে আহার করাতে তবে আজ তা প্রাপ্ত হতে। হে আদম সন্তান! তোমার কাছে আমি পানীয় চেয়েছিলাম, অথচ তুমি আমাকে পানীয় দাওনি। বান্দা বলবে, ‘হে আমার প্রভু! আপনিতো রাব্বুল আলামীন৷ আপনাকে আমি কীভাবে পান করাব? তিনি বলবেন, ‘তোমার কাছে আমার অমুক বান্দা পানি চেয়েছিল কিন্তু তাকে তুমি পান করাওনি। তাকে যদি পান করাতে তবে নিশ্চয় আজ তা প্রাপ্ত হতে (মুসলিম শরীফ)

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম অন্য এক হাদিসে বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না। (তিরমিযী শরীফ)

বর্তমান করোনা ভাইরাসের তান্ডবে সারা বিশ্ব মৃত্যপুরীতে পরিনত হয়েছে৷ লকডাউনের কারনে সর্বসাধারণ, হতদরিদ্র, দিনমজুররা কঠিন দূর্ভিক্ষে পতিত হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের বিশাল এ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০% মানুষের সাধারণ জীবন যাপন চাকুরী নির্ভর হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতে তারাও আর্থিক সংকটে বেসামাল হয়ে পড়েছে।

সরকার মহোদয় ও বিভিন্ন সমাজিক সংগঠন বিশেষ করে “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ” সহ সমাজের বিত্তবানরা কল্যাণ তাহবিল গঠন করে এসকল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন৷ তবে তা প্রয়োজন থেকে অপ্রতুল।

তাই সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান থাকবে, রাসুল (সাঃ) এর আদর্শকে ধারণ করে, ঈমানী চেতনায় বলিয়ান হয়ে, অসহায়, দিনমজুর ও হত দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াই এবং তাদের সাহায্যে এগিয়ে যাই।
আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন আমীন।

লেখক:
মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান
খতীব, উত্তর আদাবর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা৷

Sharing is caring!