আল-হাইআতুল উলিয়ার ফলাফল প্রকাশআমার কিছু অভিব্যক্তি – জহির তানভীর !

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০২০
আল-হাইআতুল উলিয়ার ফলাফল প্রকাশআমার কিছু অভিব্যক্তি – জহির তানভীর !

আল-হাইআতুল উলিয়ার ফলাফল প্রকাশ, আমার কিছু অভিব্যক্তি!
-জহির তানভীর

আল-হাইআতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল ক্বাওমিয়্যা! বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর অন্যতম একটি শিক্ষাবোর্ড। বিভক্ত ৬ টি বোর্ড নিয়ে গঠিত এই বৃহৎ বোর্ডের অধীনেই গৃহীত হয় কওমি পাঠ্যসূচীর সর্বোচ্চ ক্লাস ও সরকারী স্বীকৃত মাস্টার্স সমমানের দাওরায়ে হাদীসের ফাইনাল পরীক্ষা।
পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২২,৩৪২ জন। যাতে দেশের সকল জেলা থেকে ৬ টি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বোর্ড বিবেচনায় বেফাক বোর্ডের পরীক্ষার্থী আর বিভাগ বিবেচনায় ঢাকা বিভাগের পরীক্ষার্থী ছিল বেশি। সবশেষে আলহামদুলিল্লাহ তাদের ফলাফল শান্তিপূর্ণভাবেই প্রকাশিত হয়।

এবার আসি মূল কথায়; এই এত বড় একটি বোর্ড তাছাড়া দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল প্রকাশে যে চমক থাকা দরকার ছিল তা মোটেই পাওয়া যায়নি, এর বিপরীতে রেজাল্ট দেখতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে পরীক্ষার্থীসহ সবাইকেই। রেজাল্ট প্রকাশের কিছু ধরণ আছে যা এই বোর্ড হিসাবে থাকা অপরিহার্য ছিল, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে যে কারো রেজাল্ট দেখতে সক্ষম হয়। কিন্তু তা তো দূরের কথা বরং কোন একজন ছাত্রের রেজাল্ট দেখতে যে ভুগান্তিতে পড়তে হয়েছে তা বলা বাহুল্য।
আমি মনে করি সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ডের রেজাল্ট প্রকাশে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলোর কোন একটি থাকা দরকার ছিল:
১. বেফাক বোর্ডের মত রোল নম্বর, মাদ্রাসার ইলহাক নম্বর ও সাল দিয়ে রেজাল্ট দেখার সুবিধা।
২. সরকারি স্কুল কলেজ বোর্ড অনুযায়ী প্রতিটি বোর্ডের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর রেজাল্ট সেই বোর্ডের অধীনে ধারাবাহিকভাবে থাকা।
৩. আলিয়া মাদ্রাসাগুলোর মতো বিভাগ অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগের অধীনে সেই বিভাগের সকল মাদ্রাসার রেজাল্ট জেলা অনুযায়ী থাকা।
৪. পিডিএফ ফাইলে প্রতিটি মাদ্রাসার রোল নম্বর সিরিয়াল অনুযায়ী রেজাল্ট প্রকাশ করা।
কিন্তু বড় দুঃখের বিষয় এর কোনটিই পাওয়া যায়নি। বরং রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়েছে পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে সকল মাদ্রাসার রেজাল্ট একসাথে জগাখিচুড়ী বানিয়ে। যাতে না আছে রোল নম্বর, মাদ্রাসার ইলহাক নম্বর ও সাল দিয়ে দেখার ব্যবস্থা। না আছে বোর্ড বা বিভাগ অনুযায়ী দেখার ব্যবস্থা। না আছে রোল নম্বরের সিরিয়াল অনুযায়ী দেখার ব্যবস্থা। আমার বিশ্বাস সবাই এই ধরনের রেজাল্ট দেখতে গিয়ে প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হয়েছেন।
অথচ অফিস কর্মকর্তা কম নয়। পরীক্ষার ফিও কম নয়। সবকিছুর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন এমন হয়। এর চেয়েও বড় মজার বিষয় হলো এই সর্বোচ্চ বোর্ডের এখন পর্যন্ত কোন ভালো ওয়েবসাইটও নেই। সাধারণ কোন ওয়েবসাইটও আমার চোখে পড়েনি।

আর কিছু বললাম না, কারো মাধ্যমে কথাগুলো হাইআতুল উলিয়ার অফিস কর্মকর্তা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছলে আশা করি রেজাল্ট প্রকাশের ধরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করবে।

Sharing is caring!