আরিফ আজাদের ‘বেলা ফুরাবার আগে’

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০
আরিফ আজাদের ‘বেলা ফুরাবার আগে’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অমর একুশে গ্রন্থমেলা স্বাধীন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মেলা। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে উৎসবের মধ্য দিয়ে এ মেলায় বেচা-বিক্রি হয় মানুষের হৃদয়ের খোরাক বই। তাই লক্ষাধিক পাঠক দিন গুনতে থাকে ফেব্রুয়ারির এ মেলার অপেক্ষায়। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন, কিনেন প্রিয় লেখকের লেখা পছন্দের বইগুলো।

গত দুই বছরের ন্যায় বই মেলায় ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ সিরিজের লেখক আরিফ আজাদের এবারের বইমেলার চমক ‘বেলা ফুরাবার আগে’।এবারের বইমেলার চমক আরিফ আজাদের ‘বেলা ফুরাবার আগে’

বইটির মূল কেন্দ্রে আছে যুবক শ্রেণি। তবে, লেখকের ভাষায়, বইটি একইসাথে সকল শ্রেণির মানুষের জন্যও। আরিফ আজাদ সাজিদ সিরিজের জন্য হাজারো পাঠকের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলেও তিনি রয়েছেন এখনো পর্দার ওপাশে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মেলায় সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক শতাধিক যুবক-যুবতী ‘চর্চা গ্রন্থ প্রকাশ’ স্টলের সামনে লাইনে দাঁড়ানো। তাদের অনেকেই বইটিকে পেতে প্রায় ঘণ্টা যাবৎ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপরও বইটি পেয়ে যেন ক্লান্তির লেশ মাত্রাও নেই।

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী শাহেদ এসেছেন মেলায় পছন্দের বই কেনার জন্য। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই মেলায় আসি মূলত প্রিয় লেখকদের বইগুলো কিনতে। এবারও কয়েকটি বই কিনেছি। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ‘বেলা ফুরাবার আগে’ বইটিও নিয়েছি। একটু কষ্ট হলেও বইটি হাতে পেয়ে খুবই আনন্দিত।’

তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী আহমেদ বলেন, ‘ইসলামবিদ্বেষীরা ব্যতিক্রমী লেখনিতে নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করেন। এমতাবস্থায় যুবকরা নানান প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না পেয়ে হতাশায় ডুবেন। আরিফ আজাদের সাজিদ সিরিজের দুইটি বই হাজারো তরুণদের জমে থাকা প্রশ্নের যুক্তির মাধ্যমে সমাধান দিয়েছে। তাই পাঠক তার বইয়ের প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি।’

হাজারো বইয়ের মধ্যে এই বইটি কেন কিনলেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আরিফ আজাদের লেখাগুলো গতানুগতিক লেখার বাহিরে এসে পাঠকের মনের মধ্যে জমে থাকা প্রশ্নগুলোকে চিন্তা করে লিখেন। সাধারণত আমরা যারা মুসলমান আমাদের মধ্যে ধর্ম নিয়ে অনেক ব্যতিক্রমী প্রশ্ন থাকে, কিন্তু আরিফ আজাদের লেখা ‘সাজিদ সিরিজের’ বইগুলো যুক্তি দিয়ে তুলে ধরেছেন। যা আমাদের মনের মধ্যে থাকা প্রশ্নের নিমিষে সমাধান দিয়েছেন। সেই প্রত্যাশা থেকেই এবার ‘বেলা ফুরাবার আগে’ বইটি কিনেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ ও রেদওয়ান এসেছেন ‘বেলা ফুরাবার আগে’ বইটি কিনতে। জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘সব লেখকই গতানুগতিক লেখার বাহিরে এসে তেমন কিছু দিচ্ছেন না। অথচ লাখো যুবক-যুবতী এই বয়সে হতাশায় কাটায়, অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন ধরনের নেশায় জড়িয়ে পড়েন। সেই যুবকদের জীবনে অন্ধকার নেমে আসার আগে আরিফ আজাদের ‘বেলা ফুরবার আগে’ তরুণদের জন্য আশার আলো ফুটবে।’

Image may contain: 1 person, sitting
এ বইয়ের বিষয়ে কথা হয়েছে চর্চা গ্রন্থ স্টলের স্বত্বাধিকারী আনাস আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মানুষ কাল্পনিক উপন্যাসে মত্ত ছিলো, এখন মানুষ বাস্তবতা জানতে চায়। মাত্র দুই দিনে ‘বেলা ফুরাবার আগে’ বইটি প্রায় বিশ হাজারের অধিক বিক্রি হয়েছে। পাঠক লাইন দাঁড়িয়ে কষ্ট করে বইটি কিনছেন। বইটি সব শ্রেণির পাঠককের উপর বিবেচনা করে লেখা হয়েছে। তবে এই লেখায় তরুণ-তরুণীরা ব্যাপক উপকৃত হবে।’

আরিফ আজাদের ‘বেলা ফুরাবার আগে’ বইটিতে যা যা থাকছে …
‘আমার এতো দুঃখ কেনো?’, ‘মন খারাপের দিনে’, ‘চোখের রোগ’, ‘মেঘের ও’পার বাড়ি’, ‘সালাতে আমার মন বসে না’, ‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো’, ‘আমরা তো স্রেফ বন্ধু কেবল’, ‘জীবনের ইঁদুর-দৌঁড় কাহিনী’, ‘বলো, সুখ কোথা পাই’, ‘যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা’, ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’, ‘বেলা ফুরাবার আগে’, ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’, ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’, ‘তুলি দুই হাত করি মোনাজাত’, ‘বসন্ত এসে গেছে’, ‘চলো বদলাই’।

একুশে বইমেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে ‘চর্চা গ্রন্থ প্রকাশ’র ৩৪৮ এবং ৩৪৯ নম্বর স্টলে। পুরো মাস জুড়ে পাওয়া যাবে বইটি বলে চর্চাগ্রন্থ প্রকাশক জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আরিফ আজাদের জন্ম চট্টগ্রামে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। একাদশ শ্রেণি থেকেই তার লেখালেখি। ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ লিখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর ২০১৮ সালে ‘আরজ আলী সমীপে’ এবং ২০১৯ সালে তুমুল জনপ্রিয় ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-২। এছাড়া সম্পাদনা করেছেন ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘মা, মা, মা এবং বাবা’। এবার তার চতুর্থ মৌলিক বই ‘বেলা ফুরাবার আগে’।

Sharing is caring!