আমাদের দেশে মূর্খ যখন চেয়ারম্যান

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ১৬, ২০২০
আমাদের দেশে মূর্খ যখন চেয়ারম্যান
  • উপ-সম্পাদকীয়

একজন নেতা কেমন গুণে গুণী হওয়া চাই?

হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে ইসলামের আবির্ভাবের পর ইতিহাসের কালো অধ্যায়গুলো সাদা হয়েছে, অত্যন্ত খারাপ মানুষগুলো সোনার মানুষে পরিণত হয়েছে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন এক কষ্টিপাথর। সে কষ্টিপাথরের সংস্পর্শে যে লেগেছে সে সোনার মানুষে পরিণত হয়েছে। এটি হলো একমাত্র হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বোত্তম আদর্শের কারণে।

কেননা আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন: যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। সূরা আহযাব, ২১

 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু নবী ছিলেন না, বরং তিনি রাষ্ট্রপ্রধানও ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান থাকাকালে বুড়িমার বোঝা নিজ মাথায় বহন করেছেন। এবং একজন রাষ্ট্রনায়ক এর জন্য কেমন চরিত্র হওয়া প্রয়োজন, তিনি তা পরিপূর্ণ শিক্ষা দিয়ে গেছেন। যার ফলে সিদ্দিকে আকবর, হযরত ওমর, হযরত ওসমান, হযরত আলী, হযরত হাসান- হুসাইন, হযরত মুয়াবিয়া রাঃ।

 

তারা হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শে আদর্শিত হয়ে কিভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়, তা এমনভাবে দেখিয়ে গিয়েছেন, যা পৃথিবীর সূচনা থেকে নিয়ে কেয়ামত অবধি স্বর্ণাক্ষরে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। একজন নেতার জন্য শিক্ষিত ও সর্বাধিক আদর্শবান হয়ে নেতৃত্ব গুণে গুণান্বিত হওয়া অতীব প্রয়োজন।

 

কারণ যে নেতা হবে সে জাতির পরিচালক হবে। আর পরিচালনার জন্য নেতা সর্বাধিক জ্ঞান,গম্ভীরতা, নীতিবান ও জনদরদি হওয়ার বিকল্প নাই। যার নজির সাহাবায়ে কেরাম ও ইসলামিক নেতৃবৃন্দরা যুগে যুগে দেখিয়ে গিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ আজও অনেকে দেখাচ্ছেন।

 

যথা পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে হাতপাখায় মনোনীত বিভিন্ন চেয়ারম্যান-মেম্বার এখনো যোগ্য নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত দিয়ে যাচ্ছেন। যার সাক্ষী চরমোনাই ইউনিয়ন ও লক্ষীপুর কমলনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা।

কিন্তু বর্তমানে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের সমাজে কিছু নেতা এমন আছে, যাদের কাছে নেতৃত্বের গুণ বলতে কিছুই নেই। তাদের না আছে শিক্ষাগত যোগ্যতা, না আছে নীতি ও আদর্শের দক্ষতা, এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য যা সবচেয়ে প্রয়োজন বেশি, সেটি হল জনদরদি হওয়া, এটার উপস্থিতি তো মোটেই নেই বললে চলে। গণ্ডমূর্খ চোর বাটপার দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসী, এসব মন্দ গুনে যারা গুনান্বিত, তারা বিভিন্ন ক্ষমতাবলে এলাকার জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের রক্ত চুষে খাচ্ছে।

 

হাদিসের ভাষ্য মতে এটি হলো কেয়ামতের একটি পূর্ব লক্ষণ। কেননা হাদীসে আছে যারা রাখাল, মূর্খ, অশিক্ষিত, যাদের এলাকায় নেই কোন অবস্থান। তারা হবে সমাজের নেতা-কর্তা। তার বাস্তবায়ন বর্তমানে সব জায়গায় যেন পরিলক্ষিত হচ্ছে।

 

যেখানে জনপ্রতিনিধিদের জাতির খেদমত করার প্রয়োজন ছিল, সেখানে দেখা যাচ্ছে পিতা বয়সী এক রিকশাচালক এর মাধ্যমে চেয়ারম্যান সাহেবের পা ধোয়াচ্ছে। এটা কত জঘন্যতম ও ন্যাক্কারজনক তা বলা বাহুল্য। এটার কারণ হলো যে চেয়ারম্যান হয়েছে তার কোন চেয়ারম্যান এর যোগ্যতা বলতেই নেই।

 

হাদিসের ভাষ্যমতে মূর্খই চেয়ারম্যান হয়েছে। তাই জাতির এই দুর্দশা। আমি ভোলার চরফ্যাশনের এই মূর্খ চেয়ারম্যানের এহেন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এবং তাকে এ পদ থেকে বহিস্কার করে যোগ্য ব্যক্তিকে এ পদে বসানোর জোর দাবি জানাচ্ছি। আল্লাহ সবাইকে বুঝ দান করেন। আমিন।

 

লেখক:-

মুফতি মাহমুদুল হাসান নোমানী

তরুণ লেখক ও কলামিষ্ট

Sharing is caring!