আব্বাস সিদ্দিকী বনাম পীর সাহেব চরমোনাইর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ৩, ২০২১
আব্বাস সিদ্দিকী বনাম পীর সাহেব চরমোনাইর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার
  • আলমগীর ইসলামাবাদী 
  • বিশেষ প্রতিনিধ

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ছড়াছড়ি দেখে অবাক হলাম। এতো এতো রাজনৈতিব বিশ্লেষকের জন্ম হলো কবে থেকে? কতেকে ভারতের নির্বাচন দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ফলাফর বিবেচনা করছে।যারা আওয়ামী লীগ কে নৈশ ভোট ডাকাত বলে গালি দেয় সেই তারাই যখন ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর জনপ্রিয়তা,জনমত বিবেচনা করে তখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, ওরে মাথামোটার গোষ্ঠী, ২০১৮ সালে কি সুষ্টু নির্বাচন হয়েছে? হলে বিএনপির মত এত বড় দল ৬ টি আসন কি করে পায়? পশ্চিম বঙ্গের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর ভোটের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে কতেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর রাজনৈতিক কর্মকান্ড, ভোটের ফলাফল নিয়ে কথা বলছে।অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০৮ সালের পর থেকে দুটি জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি।

২০১৪ সালে প্রহসনের নির্বাচন বিএনপির পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রত্যাখ্যান করেছিল।২০১৮ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়।ছিল যথাযথ প্রস্তুতিও।৩০০ আসনে নৌকা ধানের শীষের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচার প্রচারণায় ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখার প্রার্থীরা।কিন্তু ভোটের আগের রাতে ক্ষমতাসীন দল ভোট বাক্স পূর্ণ করে নেন।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সম্ভাবনাময়ী আসন গুলোতে ব্যাপক মারামারি হয়েছে।এমনকি বরিশাল ৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সিনিয়র নায়েবে আমি মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম শায়েখে হান্ডেট পার্সেন্ট বিজয় হওয়ার পথে ছিল।কিস্তু ক্ষমতাসীন স্বসস্ত্র মহাড়া আর হামলার ফলে সেই আসনটিও হারাতে হয়েছে।ক্ষমতাসীন দল ছাড়া সবাই বলছে ২০১৮ সালের নির্বাচন ভোটের আগের রাতের বুথ পূর্ণ হয়েছে।সুতরাং সুষ্টু ভোট হয়নি।সেই নির্বাচন দিয়ে কোন রাজনৈতিক দলের সফলতা ব্যর্থতা নির্ণয় করা চরম বোকামী।

যারা ২০১৮ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটিও আসন পায়নি বলে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে তারা মূলত ২০১৮ সালের নৈশভোট কে বৈধতা দেয়।একদিকে বলবে,২০১৮ সালে ভোট ডাকাতি হয়েছে আর অন্যদিকে বলবে,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনও পায়নি।এটা স্ববিরোধী আচরণ নয়কি? যারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটিও আসন পায়নি বলে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে তারা হয়, স্ববিরোধী,না হয় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।কোন বিবেকবান মানুষ ২০১৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা,জনমত যাচাই করতে পারেনা।দেশ ব্যাপি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যেভাবে কর্মসূচি,রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয় জাতীয় পার্টিতে তার ১০ পার্সেন্টও হয়না।একটি জনবিচ্ছিন্ন দল ২০ আসন পায় কিভাবে সেটা প্রশ্ন হয়না?বিএনপির মত তিনবার ক্ষমতায় থাকা দল ৬ টি আসন পায়?

আব্বাস সিদ্দিকী রাজনীতিতে মাঠে নেমেছে ৬ মাস হয়েছে।তাঁর মিছিল মিটিং সমাবেশের উপচে পড়া লোক সমাগম ছিল।অনেকে সেই লোক সমাগম দেখিয়ে বলছে বাংলাদেশে চরমোনাইর পীর সাহেবের মিছিল মিটিং এ প্রচুর লোক সমাগম হয়।আব্বাস সিদ্দিকীর মত একটি আসনও পায়না।সেসব ভাইরা, আব্বাস সিদ্দিকীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং চরমোনাইর পীর সাহেব রাজনৈতিক ক্যারিয়া মিলাতে চান তারা অনবিজ্ঞ ও রাজনৈতিক জ্ঞানশূন্য। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এতোটাই বাজে , এখন ভোটের অংক দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা যাচাই করা ভোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যে রীতিমত চমক দেখাবে তা কাউকে বানান করে বলার প্রয়োজন নেই।সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীনদের অবস্থা যে জাতীয় পার্টির ন্যায় হবে তা ভালো করেই জানে।
বাংলাদেশ নির্বাচনি ফলাফল থেকে একটি দলের জনপ্রিয়তা তখনই যাচাই করা সম্ভব যখন নির্বাচন সুষ্টু ও দল নিরপেক্ষ হবে।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী
সাংগঠনিক সম্পাদক
জাতীয় শিক্ষক ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগর।

Sharing is caring!