আধুনিক যুগে খাপ খাওয়াতে ইসলামে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ১২, ২০২১
আধুনিক যুগে খাপ খাওয়াতে ইসলামে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন
  • মুহাম্মদ সিফাত উল্লাহ

এমন শ্লোগানে চারপাশ মুখরিত করছে তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী। আর তাদের মনরঞ্জিত বুলি না বুঝেই একদল ‘ওয়াহ ওয়াহ’ বলে লাফাচ্ছে। আর অজ্ঞতাবশত প্রমোট দিচ্ছে হাজারো তালিবে ইলম। চিন্তাবীদ, স্কলার, আইডল’ সহ নানান খেতাবে ভূষিত করতেও ভুল করছে না আরো একদল।

এখনো বুঝেতে কষ্ট হয় যে “সংস্কার” শব্দ দ্বারা আসলে কী বুঝাতে চায়? ইসলামের মৌলিক বিষয়, তথা; নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাতের সংস্করণ চায়? ৫ ওয়াক্তের পরিবর্তে এখন ৬ ওয়াক্ত পড়বে? রোজা ২ মাস রাখবে? অথবা হজ্জ করবে ভিন্ন কোন স্থানে বা নিয়মে? বা যাকাতের পার্সেন্টিস কমিয়ে আনবে; ব্যবস্থাপনা সহজ করতে ?

যদি উত্তরটা “হ্যাঁ” হয়, তাহলে আপনি আমাদের আলোচনার বাহিরে।

তবে যদি উদ্দেশ্য হয় পদ্ধতিগত সংস্কার, তাহলে আপনার ব্যপারে যথেষ্ট আপত্তি আছে। কারণ আল্লাহ তায়া’লা কতৃক যাবতীয় বিধি-বিধান পুঙ্খানুপুঙ্খ আদায় করার পদ্ধতি-পন্থা হুজুর (সা:) বাতলে গিয়েছেন। এমন কোন মৌলিক বিষয়াদি ছিলো না, যা তিনি করে বা বলে যান নি।

অনেকে বলেন, যেহেতু উনার তরীকা সমাজের সাথে সামাঞ্জস্যতা বজায় রেখে চলতে পাচ্ছে না। তাই যুগের সাথে তাল মেলাতে পদ্ধতিগত পরিবর্তন হোক। অন্যথায় যথাসময়ে সচেতন না’হলে আমরা আরো পিছিয়ে পড়বো।

তাহলে বিষয়টি এমন যে, সেই যামানায় মদ হারাম ছিলো, কিন্তু এখন যারা মুসলিম; আবার মদও ছাড়তে পারে না, তাদের জন্য এক বিকল্প তো বের করতেই হবে, যেন হাপিত্যেশ করতেও না হয়, আবার পাল্লা দিয়ে চলা যায়, তাই নিয়ে আসলেন, বেয়ার বা অন্যান্য পানিয় অর্থাৎ পুরাণ বোতলে নতুন মদ। অতীতে সুদ হারাম ছিলো আপনি তার নাম সংস্কার করে, নিয়ম পরিবর্তন পরিবর্ধণ করে, নতুন নামে চালিয়ে দিন, ব্যস! হয়ে গেলো পদ্ধতিগত সংস্কার!

তাহলে আপনার ব্যাপক স্টাডির পাশাপাশি ঈমানের উপর প্রচুর মেহনত করা প্রয়োজন। এখনো পূর্ণতায় আসতে পারেন নি। যেকোন সময় পদস্খলন হতে পারে। তাই খুব সাবধানে।

মূলত এমন চিন্তাভাবনার জন্য “জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাই দায়ী”। হিফয বিভাগের এক ছাত্র নিজে এবং তার পড়াশুনা চারদেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ। মাদরাসা থেকে বাড়ি, আর বাড়ি থেকে মাদরাসা, কোরআন হিফয আর তাজবিদ মাসয়িলের কিছু জ্ঞানই তার পৃথিবীর পরিধি।

যখন সে হিফয বিভাগের গন্ডি পেরিয়ে কিতাব বিভাগের দরসগাহে বসে তখন ধীরে ধীরে তার পৃথিবী বড়ো হতে থাকে। জ্ঞানের এক ভিন্ন জগতে পা দেয়, নতুন নতুন বিষয়ে ইলামের পিপাসা তিব্র থেকে তিব্রতর হয়। তখনই নানাবিধ বিষয় ভিত্তিক পড়াশোনা করতে আগ্রহী হয়ে অনেকেই বেছে নেয় কালমার্ক্স, লেলিন’সহ ইত্যাদি নানান পুস্তকাদী ।ফলে মস্তিষ্ক-নির্ভর দর্শন আর ফ্রিডম-মতবাদ বসে যায় আন্তরে। তখই ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে তার সংকোচ সৃষ্টি হতে থাকে। আর প্রতিটা ক্ষেত্রেই মাপকাঠি হিসেবে কোরআন হাদিসের রেফারেন্স নিয়ে আসাকে গুরুত্ব তো দেয়ই না, বরং সেই মতামতগুলোই উল্লেখ করতেই বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর যে বিষয়গুলো তাদের সাথে সাংঘর্ষিক সেগুলোকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বৈধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু সে কখনো ভেবে দেখে না এবিষয়ে আমাদের মুসলিম মনিষীদের কোন বই আছে কী না, বা ইসলাম এটাকে কেন শরীয়তের আওতাধীন করেছে, তার হাকিকত কী, ইত্যাদি।

এভাবেই মনমেজাজ তৈরি হয়ে যায় পশ্চিমা ধাঁচে। চাকচিক্য আর বাহ্যিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নিজের অবস্থান ভুলে যায়। ইসলামের বিষয়গুলোকে সেকেলে মনে হতে থাকে। তখনই দৃষ্টি দেয় সংস্করণ শব্দটির দিকে।

তাহলে প্রশ্ন হলো, আমাদের এই অধপতনের কারণ কী? উত্তর হবে; মৌলিক আদর্শকে ভুলে গিয়ে মন-চাই আদর্শকে গ্রহন করা, পূর্বসুরীদের আদর্শ থেকে সরে আসা। যেভাবে ইচ্ছে কোরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা করে নিজের সুবিধামতো গ্রহন করা। এবং রীতিমতো সেগুলোকে আকাবিরদের দোহাই দিয়ে তরুণ প্রজন্মের মস্তিষ্কে বসিয়ে দেওয়া।

তবে যদি তার জীবনের শুরুটাই হতো “মুরুব্বীরা বলেন” কথা বর্জন করে কোরআন হাদিসের রেফারেন্স নির্ভর প্রচুর পড়াশোনা দিয়ে, সীরাতুন নবী ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনী দিয়ে, অথবা ইমাম গাজ্জালী দর্শন, ইবনে রুশদী, হাইথাম ইত্যাদি মনিষীদের লিখিত গ্রন্থ দিয়ে তাহলে ইসলামি ব্যবস্থাপণা তার চিন্তা চেতনা সংকোচন না বরং সুবিশাল করে দিতো। আর সেগুলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করার এক বিশাল ভান্ডার তৈরি হতো। তখন মৌলিক অবস্থায় ফিরার পরবর্তীতে মনে হতো না যে, ইসলামের সংস্কার প্রয়োজন।

Sharing is caring!