আদর্শ স্বামী: ৬ষ্ঠ পর্ব

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৫, ২০২০
আদর্শ স্বামী: ৬ষ্ঠ পর্ব
  • উম্মে হাবিবা সাইমা ( চট্টগ্রাম)

পঞ্চম পর্বের পর….

নাজমিন, নুসরাত, মারিয়া, আতিকা চারজন এক জায়গায় একত্র হয়। আতিকা ও মারিয়া আসার সাথে নাজমিন ও তার মেয়ে নুসরাত তাদের সালাম দেই। আতিকা সালামের জবাব দিলেও মারিয়া সালামের জবাব দেই নি। তারা সালাম দিলে সে শুধু ইয়েস বলে। তখন নাজমিন বলে,আপু সালাম দিলে সালামের জবাব দিতে হয়। ইয়েস বললে হয় না। সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। সালাম জবাব না দিলে গোনাহগার হতে হবে। আবার অনেকে মনে মনে সালামের জবাব নেই। কিন্তু সত্যিকার অর্থে সেটা হবে না। সালামের জবাব বড় করে দিতে না চাইলে অন্তত পক্ষে যে ব্যক্তি সালাম দিয়েছিল সে শুনে মতো সালামের জবাব নিতে হবে।

মারিয়া সালামের জবাব নিবে কিভাবে? তার তো ধর্মের ব্যাপারে কোনো শিক্ষা নাই। সে তো ধর্মের প্রতি উদাসীন।

নাজমিন বলল,বুঝলেন আপু। মারিয়া বলল,হু বুঝলাম। কিন্তু আপনার বেশভূষা এরকম কেনো। এটা হচ্ছে আধুনিক যুগ। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে তা না, হয়ে গেছো হুজুরনী। এই পর্দাগুলো তো বৃদ্ধকালে ও করতে পারবেন। এখন তো ফুর্তি করার সময়।

নাজমিন তাকে কিছু বলতে যাবে এমন সময় আতিকা বলল, অনেক তো ফুর্তি করেছেন এখন না হয় আমরা সঠিক পথে আসি। দুনিয়ার আধুনিকতাকে বাদ দিয়। অনেক তো চললাম দুনিয়ার চালচলনে।শয়তানের ইশারায়। এখন থেকে না হয় নিজেকে শুধরায়। অনেক তো করলাম ফুর্তি কিন্তু বিনিময়ে কি পেলাম? শুধু গোনাহের বোঝা করছি। আজকে আমার এই চালচলনের জন্য মানুষের কাছ থেকে অনেক কিছু শুনতে হয়েছে। আমিও ইসলামকে প্রাধান্য দিই নাই। দুনিয়ার সংস্কৃতিতে ব্যস্ত ছিলাম। এই আধুনিক যুগে ওনারা যদি ইসলাম মেনে চলতে পারে আমি কেনো পারবো না। অবশ্যই পারবো! আমাকে পারতেই হবে। কারণ আমি মুসলিম। আমার কাজ হচ্ছে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের (স) দেওয়া বিধি-বিধান মেনে চলা। আর আমি সেটা করি নাই। দুনিয়ার রং তামাশায় ব্যস্ত ছিলাম। আমি তো কোনদিনই ভাবি নাই, আমার যে একদিন মৃত্যু হবে। দুনিয়ার রং তামাশার জন্য আমাকে অন্ধকার কবরে শাস্তি পেতে হবে। আমি যদি আমার ভুল শোধরানোর সময়টুকু না পেতাম। আমার যদি মৃত্যু হয়ে যেতো তাহলে আমার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যেতো। আর আমি জাহান্নামে যেতাম। যেখানে কিনা ভয়ংকর শাস্তি ছাড়া কোন শান্তি নাই। যে আধুনিকতা আমাকে বেহায়া হয়ে যাবার শিক্ষা দিবে সে আধুনিকতার মূল্যটা কোথায়? এই আধুনিকতার জন্য যদি আমি জাহান্নামের রাস্তা তৈরি করি এই আধুনিক তার প্রয়োজন কি? এবার থেকে আমি ইসলামের বিধি-বিধান অনুযায়ী চলবো ইন শা আল্লাহ।

মারিয়া ভাবে যে মেয়ে কিছুক্ষণ আগে দুনিয়ার রং তামাশায় ব্যস্ত ছিলো সে মেয়ে কিনা দুনিয়ার আধুনিকতাকে খারাপ ভাবতে শুরু করেছে। আজব তো! কি থেকে কি হয়ে গেলো। হয়তো ইসলামের বিধি-বিধান গুলো মানুষ খারাপ কাজ থেকে রক্ষা করে, তাই এই মেয়েটি আজ পরিবর্তন।

মারিয়া আতিকাকে বলল,তুমি তো কিছুক্ষণ আগে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলে ছিলে। আর আবার এখন বলছো ইসলামের বিধান অনুযায়ী চলবে। কিন্তু কেনো?

আতিকা মারিয়ায় কথার প্রতিউত্তরে বলল,হ্যা আমিও আপনার মতো দুনিয়ার আধুনিকতাকে অনেক বড় মনে করতাম। ইসলামের কোন বিধান মানতাম না। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলাকে ভালো মনে করতাম। আর এটাও মনে করতাম যুগের সাথে যদি তাল মিলিয়ে না চলি তাহলে মানুষ আমাকে কি বলবে? টিটকারি মারবে। মানুষের কাজ তো এটাই। ভালো কিছু করলে উৎসাহ দিবে তা না। কিন্তু কেনো করেছি আর না করার জন্য বাধা দিবে। আমি এতোদিন অন্ধকার জগতে ছিলাম। আমার মনের কালো পর্দা খোলে গেছে। আজ যদি এরকম পরিস্থিতি না পড়তাম তাহলে হইতো আল্লাহর দেওয়া জীবনের মূল্যটা বুঝতাম না।

দুনিয়ার মোহে পড়ে ছিলাম এতোদিন। দুনিয়াকে বড় মনে করেছিলাম। এই দুনিয়ায় যে আমি ক্ষণস্থায়ী তা কখনো ভাবি নাই। দুনিয়াটা যে আমার আসল ঠিকানা নয় সেটা আমার ঘুণাক্ষরেও ছিলো না। শুধু আধুনিকতা আর আধুনিকতা। কেউ যদি নামাজ কালাম পড়তে বলে সেটা মানি নাই। বরং উপেক্ষা করেছি। আখিরাতে কি জবাব দিবো আমি? একটা কথায় তো বলতে পারবো যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ধর্মের বিধান মেনে চলার চেষ্টা করি নাই। এটার জন্য তো আমি শাস্তি পাবো। জাহান্নামের অধিবাসী হবো। এতোদিন নিজেকে চিনি নাই,নিজেকে অনেক দামি ভেবেছি তাই তো আমি এরকম সাজগোজ করে,চুল ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় আসা যাওয়া করতেছি। আসলে এসব করা আমার দামি হওয়া নয়,বরং সস্তা হওয়া। যে মেয়ে নিজেকে সম্মান দিতে জানে,দামি মনে করে, সে তো ইসলামের বিধান অনুযায়ী চলে বা চলার চেষ্টা করে। আমি আজ থেকে নিজেকে সস্তা ভাববো না। দামি বানাবো।দামি বানানো হচ্ছে নিজেকে ইসলামের বিধান যেভাবে আছে সেভাবে চলানো। পর্দা করা,নামাজ রোজা ইত্যাদি সব বিধান মেনে চলা। এখন থেকে সেটাই করবো। আর যেসব মেয়েরা নিজেদের সস্তা মনে করে তারাই তো বেহায়ার মতো চলাফেরা করে। আমি তো বেহায়া ছিলাম। দুনিয়ার মোহ আমাকে হতাশা,বিগ্রহ ভুগাইছিল। যদি আখিরাত ভাবতাম দুনিয়ার কোন কিছু আমাকে শেষ করতে পারতো না।নিজেকে চিনতাম। হ্যা আজ আমি নিজেকে চিনতে পেরেছি।

মারিয়ার মন খানিক গললেও আবার শয়তানের ধোঁকায় আগের মতো হয়ে যায়। সে একবার ভাবে নিজেকে পাল্টাবে আবার ভাবে এ আমি কি ভাবছি! আমি যদি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে না চলি লোকে কি বলবে আর এদের মতো তো চলা যাবে না।

এবার মারিয়া নাজমিনকে জিজ্ঞেস করে,তুমি এভাবে ঢিলেডালা বোরকা নিজেকে আবৃত করেছো কেনো? এমনিতে ও থ্রিপিস বা বোরকায় আবৃত করতে পারো। এতো ঢিলেডালা বোরকা পড়েছো যে কেমন জানি লাগছে। শুধু বোরকা পড়ে এমনিতে হিজাব বাধলে তো হয়ে যাচ্ছে। নিকাব করতে হয়েছে কেনো? আর সাথে হাত-পা মোজা কেনো? এই ছোট মেয়েটিকেও কেনো বোরকা পড়াইছো?

নাজমিন আস্তে আস্তে মারিয়ার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে শুরু করলো,এরকম ঢিলেডালা বোরকা পড়েছি কারণ ইসলাম ধর্মে এরকম ঢিলেডালা বোরকা পড়তে বলা হয়েছে। যেনো এক বোরকায় দুইজন মানুষ থাকতে পারে এরকম। কারণ যাতে কেউ আমাদের দেহকে দেখতে না পারে বা আমার শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ এর মাপ নিতে না পারে। এখন অনেকেই ফ্যাশনের নামে বোরকা ব্যবহৃত করে। এদের গোনাহ হচ্ছে। বোরকা পড়তে হবে পর্দা করার জন্য ফ্যাশন করার জন্য নয়। আমি যদি শুধু বোরকা পড়ি নিকাব না করি তাইলে আমার সৌন্দর্য পরপুরুষেরা গিলে গিলে খাবে। আনন্দ নিবে। এতে আমার গোনাহ হবে আর যারা আমাকে দেখবে তাদের ও হবে। কারণ আমাদের দেহের সৌন্দর্য মুখে। তাই আমি নিকাব পড়েছি। আর হা-পা মোজা পড়ার কারণ হলো আমার মুখ দেখতে না পারলে হাত ও পায়ের সৌন্দর্য দেখবে। আমার প্রতি কুদৃষ্টি দিবে। তাই এরকম। আর আমার মেয়ে নুসরাতকে ছোটকাল থেকে বোরকা পরাচ্ছি এই কারণে যাতে সে কোন ভাবে দুনিয়ার বিলাসীতায় পড়ে পর্দার গুরুত্ব ভুলে না যায়। আর ও অনেক কারণ আছে অবশ্য। তবে এটাই প্রধান। যদি কাউকে ছোটকাল থেকে ধর্মীয় শিক্ষার উপর রাখে তবে সে সেভাবে চলবে। একটা কথা মনে রাখবেন শিশুরা হচ্ছে অনুকরণ প্রিয়। আপনি তাকে যেরকম শিক্ষা দিবেন সে সেরকম শিক্ষা নিবে। তাই বড়দের এই ব্যাপারে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 

চলবে…..

 

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন আগামীকাল ঠিক এই সময় পর্যন্ত

 

প্রথম পর্ব: আদর্শ স্বামী

দ্বিতীয় পর্ব: আদর্শ স্বামী

তৃতীয় পর্ব: আদর্শ স্বামী

চতুর্থ পর্ব: আদর্শ স্বামী

পঞ্চম পর্ব: আদর্শ স্বামী

 

[লেখায় কারও অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আওয়ার বাংলাদেশকে দোষারোপ না করার বিশেষ অনুরোধ থাকবে]

Sharing is caring!