আদর্শ স্বামী: ৫ম পর্ব

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৪, ২০২০
আদর্শ স্বামী: ৫ম পর্ব
  • উম্মে হাবিবা সাইমা ( চট্টগ্রাম)

চতুর্থ পর্বের পর….

দেখো মানুষের মৃত্যুর ১ সেকেন্ডের ও বিশ্বাস নাই। কখন যে কার মৃত্যু হবে তা কেউ জানে না। এমন ও হতে পারতো তোমাদের ভুল শোধরানোর আগে তোমার মৃত্যু যদি হয়ে যেতো তখন তোমরা কি করতে। পাপকাজের ফলস্বরুপ তোমাদের জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হতো। সময় থাকতে তোমরা তওবা করো। পাপ কাজ থেকে তোমাদের দূরে রাখার চেষ্টা করো। তোমরা পারবে অবশ্যই পারবে। তোমরা না জেনে ভুল করেছো,এখন জেনেশুনে ভুল করিও না। মনে রাখবে একদিন সবাইকে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে। মৃত্যুর কোনো বয়স নাই। এমন ও অনেকে আছে যারা বলে যৌবন কাল ফূর্তি করার সময়। নামাজ, রোজা তো বৃদ্ধকালেও পড়া ও রাখা যাবে। তারা কি সেই সময়টুকু পেয়েছে। হইতো অনেকে পেয়েছে আবার হইতো অনেকেই পায় নি । যারা পায় নি তারা কি সুখে আছে নাকি জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হচ্ছে। এমন অনেক হাজার হাজার যুবক-যুবতি আছে যারা বৃদ্ধকালে নামাজ রোজা করবে বলে যৌবনে ফুর্তি করতে চেয়েছিল তারা তো আজ সেই আসল ঠিকানা কবরের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছে। তারা কি জানতো যৌবন শেষ হওয়ার পূর্বেই তাদের অন্ধকার কবরে চলে যেতে হবে? নিশ্চয়ই জানতো না। কারণ মৃত্যুর খবর কেউ জানে না একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।

আচ্ছা ঠিক আছে এসব বুঝলাম কিন্তু একটা বিষয় কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছি না। এই বিষয়টা বলে দিলে অনেক উপকার হয়। নাহিদ বলল,কি বিষয় জানতে চাও বলো? আমি আমার সাধ্যমতো ইসলামি শরীয়া অনুযায়ী সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে চেষ্টা করবো। এবার বলো কি বিষয়?

আপনি বলেছেন,বিয়ের আগে প্রেম অবৈধ হারাম। কিন্তু কেনো? আমি যতটুকু জানি বিয়ের আগে প্রেম পবিত্র। শুধু নিজেকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখলে হইছে। পাপকাজ বলতে টাচ করা, একে অপরকে জড়িয়ে ধরা ইত্যাদি…….
এসব করলে তো প্রেম অপবিত্র হয়ে যায়। আর আমরা তো এই প্রেমের কথা বলে এসব অবৈধ কাজ করছি না। তাইলে বিয়ের আগে প্রেম অপবিত্র, অবৈধ, হারাম হয় কেমন করে। একটু বুঝিয়ে দিলে ভালো হয়।

অনেক সুন্দর প্রশ্ন করেছো, মাহরাম আর গাইরে মাহরাম চিনো কি?

আশিক বললো না চিনি না,জানি না। এগুলো নতুন শুনলাম। এসব কি?

নাহিদ বলল,যাদের সামনে পর্দা করতে হয় না অর্থাৎ যাদের সাথে বিবাহ সম্পর্ক হারাম তারাই মাহরাম।তবে পর্দা করতে হয় না কিন্তু শরীর ভালোভাবে ঢেকে তাদের সামনে যেতে হয়। যাতে শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রতঙ্গ বোঝা না যায়। এটা মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রযোজ্য।

আর গাইরে মাহরাম?

গাইরে-মাহরাম হচ্ছে তারাই যাদের সাথে বিবাহ সম্পর্ক হালাল মানে যাদের সাথে বিয়ে হতে পারবে।এবার বুঝেছো মাহরাম আর গাইরে মাহরাম কি?

হু বুঝলাম। তারপর বিয়ের আগের অবৈধ প্রেম সম্পর্কে বলেন।

হু বলছি মন দিয়ে শুনো। ইসলামে আছে কোনো বেগানা পুরুষ, কোনো বেগানা নারীর দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে দেখলে চোখের যিনা হয়। এই পাপকাজ না করেও পাপকাজের ভাগীদার হতে হয়।

তবে একবার অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি দৃষ্টি চলে যায় তাহলে সেটা ক্ষমার যোগ্য। যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দেখে তাহলে গোনাহগার হবে। আর ইচ্ছেকৃতভাবে করা পাপ কাজের ক্ষমা নাও হতে পারে। তাই পুরুষদের বলা হয়েছে তারা তাদের দৃষ্টি যেনো নিচের দিকে অবনত রাখে। এতে তারা অনেক পাপ থেকে বেঁচে যায়। কোনো বেগানা পুরুষ আর কোনো বেগানা মহিলা কোনো নির্জন স্থানে একত্রিত হলে তখন তারা দুইজন থাকে না তিনজন হয়ে যায়।

তিনজন হয়ে যায় মানে? ছিলো তো দুইজন আর একত্র হওয়ার পর তিনজন কিভাবে হয়? যদি তিনজন হয় তাহলে তৃতীয় ব্যক্তিটি কে?

নাহিদ বললো,তৃতীয়জন ব্যক্তি হিসেবে থাকে শয়তান। যে কিনা সবসময় মানুষকে ধোকা দেওয়ার কাজে থাকে।য খন বেগানা পুরুষ আর মহিলা একাকি কোন নির্জন স্থানে কোনো মাহরাম ছাড়া একত্র হয় তখন শয়তান তাদের মনে নানারকমের ফন্দি আকায়। যার কারণে পাপ কাজ হয়ে যায়। তারা একে অপরের প্রতি আকর্ষিত হওয়ার জন্য তাদের সৌন্দর্যকে তাদের মনে দ্বীগুণ করে দেই। যাতে তারা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। যেখানে একজন গাইরে মাহরাম আরেকজন গাইরে মাহরামের সাথে একাকি নির্জনে যেতে পারে না, বা এছাড়া কোনো প্রয়োজনীয় কথাবার্তা ছাড়া অন্যকোন কথা বলাতে জায়েজ নাই। সেখানে বিয়ের আগে প্রেম হালাল হয় কেমন করে? যারা বলে বিয়ের আগে প্রেম পবিত্র। শুধু পাপ কাজ থেকে বিরত থাকলে হবে। এটা একটা বানোয়াট কথা। এরকম অনেক কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। অথচ কেউ সঠিকটা কি জানতে চাই না বা জানে না।

আর একটা কথা, বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর জন্য প্রেম হালাল। কিন্তু স্বামী যদি তার স্ত্রীর পাপ্য দেনমোহর শোধ করে দিতে না পারে ,বা বলার পর ও যদি স্ত্রী ক্ষমা না করে দেন যেখানে স্বামী তার স্ত্রী টাচ করতে পারে না। সেখানে বিয়ের আগের প্রেম পবিত্র হয় কেমন করে? এটা একটা মিথ্যা বানোয়াট কথা।

এসব বানোয়াট কথা এটা অনেকে জানে না। জানলে ও মানে না। যারা মানে না তাদের বিবেক কি লোপ পায়? হতেও পারে আবেগে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। তখন মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। আবেগের মাধ্যমে যে কাজ হয় সেটা তারা ভালো মনে করে। পরে যখন বুঝতে পারে আবেগের কারণে তাদের কতটা ক্ষতি হয়েছে। হইতো এমন ও হতে পারে সেটা তার জীবনের শেষ সময়। কিন্তু কি করবে। তওবা করতে হবে। তবে মৃত্যুর আগে। এটা নিয়ে একটা বাণী আছে,

“তোমরা গোনাহ করলে তওবা করে নাও। এটা ভাবিও না যে তোমাদের তওবা কবুল হবে না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবা দরজা খোলা থাকে। মৃত্যু যখন উপস্থিত হবে তখন তওবা করলেও কোনো কাজ হবে না । শত অনুশোচনায় ভুগলেও”

আল্লাহ তায়ালা গাফফারুর রহিম। তিনি তওবাকারীদের ভালোবাসেন। তাই বলছি, তোমরা সময় থাকতে তওবা করে নাও। দ্বীনের পথে এসেছো। আল্লাহ তায়ালা হেদায়াত দিয়েছেন তোমাদের। আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন। তাই কোনো না কোন উচিলায় তোমারা হেদায়াত পেয়েছো। এখন তোমাদের তওবা করার সময়। পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করো।

কথার একপাকে নাহিদের চোখ যায় আশিকদের কানের দিকে। সে দেখতে পায়,আশিকদের কানে এয়ারফোন/হেডফোন লাগানো। সেটা দেখে তিনি অবাক হয় নি। কারণ এই যুগে সবার এরকম থাকে।তারাতো জানে না। ইসলামে গান-বাজনা হারাম। গান শয়তানের তৈরি। অথচ মুসলমানরা এইসব গান-বাজনা হারাম থেকে দূরে থাকবে তা না। তারা সেগুলো নিয়ে সারাক্ষণ মত্ত থাকে। তারা কি জানে গান শোনা বা গাওয়া হারাম।

তখন নাহিদ তাদের বললো,তোমরা কি এই হেডফোন /এয়ারফোন সারাক্ষণ কানে লাগিয়ে রাখো, আর শুনো। তারা বলল তো এছাড়া আর কি করবো?
-এছাড়া আর কি করবে। কেনো এছাড়া কি অন্য কোন কাজ নাই।
-গান আমাদের সম্পদ। গান গাইলে মনের বেদনা চলে যায়। গান না শুনলে মনে হয় পেটের ভাত হজম হবে না।
-হয়ছে হয়ছে অনেক হয়েছে। এবার থামো। এই যে তোমরা সারাদিন গান নিয়ে মত্ত থাকো। এই গান সম্পর্কে আমি কি বলতে চাই তা ভালো করে শুনো।
-আচ্ছা শুনছি আপনি বলেন।
নাহিদ বলতে শুরু করলো। গান শুনা মুসলমানদের জন্য হারাম। সবাই একসাথে বলে উঠলো কি কি!!

গান শোনা আর গাওয়া হারাম। শয়তানের তৈরি সবকিছু মুসলমানদের জন্য হারাম।আদম সন্তানদের পথভ্রষ্ট করার জন্য বিভিন্ন কায়দাকানুন করেছিলো। সেই কায়দাকানুনের মধ্যে গান অন্যতম।তখন আয়মান বললো,আদম সন্তানদের কেনো পথভ্রষ্ট করতে চায়? আদম সন্তানরা কি করেছিলো, যার জন্য শয়তান সবসময় মানুষকে পথভ্রষ্ট করে?
-গুড অনেক সুন্দর প্রশ্ন।তাহলে শুনো শয়তান কেনো আদম সন্তানদের পথভ্রষ্ট করে বা করার জন্য সুযোগ খুজে।

কারণ মানব জাতির জন্য তাকে শয়তান হতে হয়েছিলো। শয়তানের সর্দার হচ্ছে ইবলিশ। সে ছিলো একজন ফেরেশতা। ফেরেশতা থাকাকালীন তার নাম ছিলো আজাযিল। সে বছরের পর বছর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য সারাক্ষণ ইবাদতে মশগোল থাকতো। আর অন্যদিকে সে ছিলো জ্বীন। আর জ্বীনেরা আগুনের তৈরি। তখন কোনো মানুষ ছিলো না। প্রথম মানুষ হিসেবে আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আ) সৃষ্টি করেছেন। হযরত আদম (আ) কে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের আদেশ করলেন হযরত আদম (আ) কে সেজদা করার জন্য। অন্যান্য ফেরেশতা আল্লাহর হুকুম মানলেও আজাযিল আল্লাহ্‌র হুকুম মানে নি। তার মনে অহংকার ছিলো তখন যেটা আগে ছিলো না। সে যখন হযরত আদম (আ) সেজদা করে নি। তখন আল্লাহ বললো, আজাযিল সব ফেরেশতারা আমার হুকুম মানলেও তুমি মানো নি কেনো? আজাযিল বললো,এই মাটির মানবকে আমি সেজদা করবো কেনো? তার চেয়ে আমি শ্রেষ্ঠ (শ্রেষ্ঠ বলতে উপরে বোঝানে হয়েছে)। সে নিচে আর আমি উপরে। আমি কেনো তাকে সেজদা করবো। সেদিন জেদ ও অহংকারের কারণে সেই আজাযিল শয়তানে পরিণত হয়। সে পৃথিবীতে অবতরণ করার আগে আল্লাহর কাছে কয়েকটা জিনিস চেয়েছিল। তখন আল্লাহ তার সকল আশা পুরণ করেছিলো। সে আল্লাহকে বলেছিলো,মানবজাতির জন্য আজ আমাকে অভিশপ্ত হতে হয়েছে।  এই মানব জাতিকে আমি জাহান্নামে আমার সাথি হিসেবে নিবো। সে আল্লাহ তায়ালার কাছে চেয়েছিলো সে যেনো অদৃশ্য থাকে,আর মানজাতির শিরায়, উপশিরায় ইত্যাদি বিচরণ করতে চায়। তাও হয়েছিলো। তখন থেকে শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করা শুরু করে। যে মানব জাতির জন্য সে অভিশপ্ত হয়েছিলো, সে মানব জাতিকে জাহান্নামে নিতে চায়। তাই বিভিন্ন ধরনের কায়দাকানুন সে করেছিলো।

আমরা মুসলিম। আমাদের ধর্ম ইসলাম ।আমাদের উচিত সকল রকম হারাম থেকে বাঁচা। যদি হারাম কাজে লিপ্ত থাকি তাহলে এই হারাম কাজের ফল হিসেবে আখেরাতে শাস্তি পাবো। আমরা কি চাই শাস্তি পেতে? না চাই না। যারা হারাম কাজে লিপ্ত থাকে তারা দুনিয়াতে পাবে অশান্তি আর আখিরাতে তো আছেই।

আমরা এইগান কিভাবে ছাড়বো? গান তো আমাদের হৃদয়ে, মস্তিষ্কে ছড়িয়ে গেছে।
-গান কিভাবে ছাড়বে আমি বলে দিচ্ছি। সব হারাম কাজ থেকে যদি একত্রে বের হতে চাও তাহলে সহজে পারবে না। কারণ তোমাদের এই কাজগুলো করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই পারবে না। আস্তে আস্তে একটা একটা বাদ দাও। তোমাদের এই গান ছাড়তে হবে। হুট করে তোমরা সেটা পারবে না। তাই তোমরা আজকে সব রকমের নাচ-গান মোবাইল থেকে বা অন্যকিছুতে থাকলে সেগুলো গান ডিলেট করে দিবে। তারপর বিভিন্ন ধরনের হামদ-নাত,ওয়াজ নসিহত,কুরআন তিলওয়াত ডাউনলোড করে নিবে। আর এসব শুনবে। যখন গান শুনতে বা গাইতে ইচ্ছা করবে তখন এগুলো শুনবে আর গাওয়ার চেষ্টা করবে। তাহলে তোমরা আস্তে আস্তে গানের আশক্ত থেকে ফিরে আসবে।

তোমাদের একটা হাদিসের বলি,একদা হযরত মুহাম্মদ (সঃ)এর কাছে এক ব্যক্তি আসলো। সে বলল,ইয়া রাসুল (সঃ) আমি মিথ্যাকথা বলি,চুরি ডাকাতি ইত্যাদি আরও বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজ করি। আমি এইকাজগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। কিভাবে আসবো বলে দিন। “তখন রাসুল বলেছেন,তুমি সর্বপ্রথম মিথ্যা কথা বলা ছেড়ে দাও। তারপর আসতে আসতে অন্যান্যগুলো ও ছাড়া সহজ হয়ে যাবে।”

সে লোকটি রাসুল (স) এর কথামতো মিথ্যা বলা ছেড়ে দিলো। সে সাহাবী ধীরে ধীরে অন্যান্য খারাপ কাজগুলো ও ছাড়তে পেরেছে।

তোমরা একটা কথা মনে রেখো, মিথ্যা হচ্ছে সকল পাপকর্মের প্রধান। যদিও মনে হয় এটা ছোট। মিথ্যা হচ্ছে সকল পাপের মা। তোমরা যদি এটা একেবারে ছেড়ে দিতে পারো তাহলে অন্যান্য পাপকাজগুলো করার সাহস হবে না।
-আচ্ছা ঠিক আছে আমরা তাই করবো। এখন থেকে আমাদের লক্ষ একটাই, আর সেটা হচ্ছে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন করা। আমরা সেজন্য পাপকাজ থেকে বিরত থাকবো। প্রতেকদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়বো। কুরআন তিলওয়াত করবো। এছাড়া আর কি করবো?
-তোমরা বিভিন্ন ধরনের ইসলামিক বই পড়তে পারো। নবীদের জীবনী,সাহাবীদের জীবনী ইত্যাদি আর ও অনেক। যদি বইগুলো পড়ো আর সেই অনুযায়ী আমল করো তাহলে তোমাদের দুনিয়াতে ও শান্তি, আখিরাতেও শান্তি। আর তোমরা কোন মাহরাম ব্যতিত অন্য কোন বেগানা নারীর দিকে তাকাবে না।সেটা হোক ঘরে কিংবা বাইরে। দৃষ্টি নিচের দিকে রাখবে সবসময়। যদি দৃষ্টি নিচের দিকে রাখো তাহলে তোমরা অনেক গোনাহ থেকে বেঁচে যাবে। মনে রাখবে এটা আল্লাহর হুকুম তাই অবশ্যই এটা আমাদের পালন করতে হবে। শয়তানের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। জয়ী হতে হবে আমাদের। তোমাদের যদি দৃষ্টি নিচের দিকে রাখতে ইচ্ছে না হয় তাহলে বুঝবে এটা শয়তানের ওয়াসওয়াসা। কোনো বেগানা নারীর দিকে চোখে চোখে রেখে কথা বলবে না। যদি দেখো তাহলে বুঝবে এটা চোখের যিনা। যিনা না করে ও যিনা। এটা কথা মনে রেখো হাসরের ময়দানে আমাদের এই ঠোটে শিকল বেড়ি থাকবে। এই মুখ দিয়ে আমরা কিছু বললতে পারবো না। আমরা চুপ থাকবো। শুধু মুখ ছাড়া শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলো আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলবে। আমরা এই হাত, চোখ পা দিয়ে কি দেখছি কি করেছি সেটা বলবে।
“কথায় আছে না যার জন্য করলাম চুরি সেও বলে চোর”
এখন আতিকার উদ্দেশ্য নাহিদ বললো,আপু কষ্ট করে বোরকা পরিহিতা মেয়েটির কাছে যান।
-কেনো?
-উনি আপনাকে মেয়েদের বিষয়ে বাকি কথাগুলো বলে দিবেন। আমি তো অনেক কিছু বললাম। অনেক অজানা কিছু জানলেন। এবার উনার কাছে গিয়ে মেয়েদের ব্যাপারে কিছু জানুন আর নিজের জীবনে তা প্রয়োগ করুন। এতে আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
-আচ্ছা যাচ্ছি। আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ দিবো। ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা আমার নাই। আপনার মাধ্যমে আমরা ভুল পথ থেকে ফিরে এসেছি। আলোর দিকে যাওয়ার সন্ধান পাইছি।
-আপু ধন্যবাদ দিবেন না। হেদায়াতের মালিক আল্লাহ। তিনি তাঁর বান্দাদের হেদায়াত দান করেন।ধন্যবাদ দিবেন আল্লাহকে যিনি আপনাকে পাপ থেকে বাঁচার জন্য তাওফিক দান করেছেন। আর ধন্যবাদ না দিয়ে জাযাকাল্লাহ খাইরান বলবেন।
-কেনো কেনো? ধন্যবাদ না দিয়ে জাযাকাল্লাহ খাইরান বলবো কেনো?
-ধন্যবাদ দিলে শুধু ধন্যবাদ দেওয়া হয়। আর জাযাকাল্লাহ বললে ধন্যবাদ ও হয় সেই সাথে দোয়া ও করা হয়।
-সত্যিই ইসলাম ধর্মের একেকটি বিষয় মনোমুগ্ধকর। এবার আমি আপুর কাছে গেলাম। আতিকা নাজনিনরা যেখানে ছিলো সেখানে যেতে থাকে। আর সেখানে মারিয়া ও ছিলো এতোক্ষণ। সে দূর থেকে কি হচ্ছে তা এতোক্ষণ ধরে পর্যবেক্ষণ করেছিলো।

চলবে…..

 

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন আগামীকাল ঠিক এই সময় পর্যন্ত

 

প্রথম পর্ব: আদর্শ স্বামী

দ্বিতীয় পর্ব: আদর্শ স্বামী

তৃতীয় পর্ব: আদর্শ স্বামী

চতুর্থ পর্ব: আদর্শ স্বামী

 

[লেখায় কারও অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আওয়ার বাংলাদেশকে দোষারোপ না করার বিশেষ অনুরোধ থাকবে]

Sharing is caring!