আদর্শ স্বামী: শেষ পর্ব

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৬, ২০২০
আদর্শ স্বামী: শেষ পর্ব
  • উম্মে হাবিবা সাইমা ( চট্টগ্রাম)

ষষ্ঠ পর্বের পর….

আপনি শিশুকে ছোটকাল থেকে যে শিক্ষা দিবেন সে সেই শিক্ষায় বড় হবে। আমরা মুসলিম তাই আমাদের কর্তব্য শিশুকে ছোটকাল থেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া।

মারিয়া ভাবে তার ছেলে আরিয়ান ও তো ধর্মের শিক্ষায় দীক্ষিত হতে চাই। ছেলেটি বয়স ৫ বছর হলেও আগে থেকে তেমন কোনো শিক্ষা দেওয়া না হলেও তার মধ্যে ইদানিং দেখা যাচ্ছে ধর্মের প্রতি আগ্রহ। এখন যুগ চলছে আধুনিক তাই আমি এই বিষয়য়টি গুরুত্ব দিই নাই। বরং এটা বলার কারণে আরো বকে ছিলাম। আমি যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে নিজেকে চিনতে পারি নাই। লোকে কি বলবে এই ভেবে আমি ছেলেকে ধর্মের গুরুত্ব শিখাই নি। শিখাবো কিভাবে? আমি তো যুগের জন্য অন্ধ ছিলাম। মাহিন আমাকে অনেক বুঝিয়ে ছিলো। কিন্তু আমি বুঝি নাই। এখন আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি নিজেকে সংশোধন করবো। আমার ছেলেকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিবো। আমি যতই ইংরেজিতে অনার্স,মার্স্টার্স করি না কেনো এই পড়ালেখা দুনিয়ায় থেকে যাবে। এই পড়ালেখার জন্য আমি আমার ধর্মকে চিনি নাই। আল্লাহ্‌ আমাকে জীবিত রেখছেন এটাই অনেক। আমাকে ভুল শোধরানোর পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। আমি আর কাউকে কষ্ট দিবো না। নিজেকে পরিবর্তন করবো। নিজেকে ইসলামের শিক্ষায় দীক্ষিত করবো। আতিকা যদি আজকে তার নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে পরিবর্তন করার কথা বলতে পারে তাইলে আমি কেনো পারবো না। হ্যা আমি পারবো।

নাজমিন আতিকা বলল,আচ্ছা আতিকা তুমি যে মাথায় কাপড় দাও নি ।আর কাপড় পড়েও না পড়ার অবস্থা এর জন্য শাস্তি হবে তা তো জানোই। আতিকা বলল,আগে জানতাম না এখন আমার বোধগম্য আসছে তাই জানি। মাথায় কাপড় না দিলে কি শাস্তি হবে আপু। তখন নাজমিন বলল,মাথায় কাপড় প্রসঙ্গে একটা হাদিস আছে সেটা হচ্ছে।

“যে মেয়ে মাথায় কাপড় ছাড়া চলবে,কিয়ামতের দিন তার একেকটি চুল তাকে সাপ হয়ে কামড়াবে।”
সহীহ বুখারী

এটা শোনার সাথে সাথে আতিকা মাথায় কাপড় দেই আর দেহ ঢাকার চেষ্টা করে। মারিয়া অবাক হয় নি, কারণ মাহিন তাকে বলেছিল,মারিয়া মাথায় তুমি হিজাব দিয়েছো বিধায় একটা গোনাহ থেকে বেঁচে গেছো। ফ্যাশনের জন্য হলে গোনাহগার হবে। তাহলে এটাই সেটা। নাজমিন তাদের উদ্দেশ্যে বলল,তোমরা পর্দা করবে শুধু নিজেকে আর অন্যকে গোনাহ থেকে বাঁচানোর জন্য। আর পর্দা হচ্ছে সার্বক্ষণিক একটি ফরজ কাজ। এটার খেলাফ হলে জাহান্নামের যেতে হবে। অনেকে জানে না বা জেনেও করে না তাদের জন্য শাস্তি রয়েছে। আর যারা জেনেও মানে না তাদের জন্য শাস্তি ভয়ংকর। আপু এই সুন্দর দেহ কবরে এরকম থাকবে না যদিই না ইসলামের বিধান মেনে না চলো। মারিয়া ও আতিকা কান্না করবে এই দশা। তখন আতিকা বলল,আপু একটু হেল্প করবেন প্লিজ?
-কি?
-আপু আমি এখন শপিং মলে গিয়ে পর্দার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিতে চাই। আমি তো কোন দিন নিই নাই, তাই বলছি এসব নিতে সাহায্য করার জন্য। নাজমিন খুশিতে আতিকাকে জড়িয়ে ধরে। সেইসাথে মারিয়া ও। মারিয়া বলে সেও যাবে তাদের সাথে। সে কিনবে। তখন আশিকরাসহ সবাই মিলে শপিং মলে চলে যায়। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যে যার বাসাই চলে যায়।

১বছর পর

আজ আতিকা ও আশিকের বিয়ে। তারা তাদের বিয়ে হযরত মুহাম্মদ (স) এর সুন্নাত মোতাবেক করার চেষ্টা করছে। তারা জানে, হযরত মুহাম্মদ বলেছেন,যে বিয়েতে যত বেশি খরচ কম সে বিয়ে তত বেশি বরকতময়। সে অনুযায়ী করতেছে। কোনো আনন্দ,হৈ-হুল্লুট, বেহায়াপনা ছাড়া আশিক আতিকাকে তার ঘরে নিয়ে আসে। এরিমধ্যে মারিয়া ও মাহিনের কুলজুড়ে একটি মেয়ে আর নাজমিন ও নাহিদের কুলজুড়ে একটি ছেলে জন্মগ্রহণ করে।
নাজমিন আর নাহিদের মাধ্যমে শেষ হয় মাহিনের মারিয়াকে বুঝিয়ে ধর্মের দিকে নিয়ে আসা।

হ্যা সেদিন থেকে মারিয়া,আতিকা,আশিক ও তার ফ্রেন্ডরা নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে শুরু করে।তারা সেদিন থেকে ইসলামের বিধি-বিধান গুলো আস্তে আস্তে পালন করার চেষ্টা করে আর সফল ও হয়। তারা এখন একেকজন প্রেক্টিসিং মুসলিম আর মুসলিমাহ। তারা এখন একে অপরকে নিয়ে সুখে শান্তিতে ইসলামের বিধান মোতাবেক জীবন যাপন করছে। পরিশেষে আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল সঠিক পথে  চলার তাওফিক দান করুন-আমীন

সমাপ্ত

 

প্রথম পর্ব: আদর্শ স্বামী

দ্বিতীয় পর্ব: আদর্শ স্বামী

তৃতীয় পর্ব: আদর্শ স্বামী

চতুর্থ পর্ব: আদর্শ স্বামী

পঞ্চম পর্ব: আদর্শ স্বামী

ষষ্ঠ পর্ব: আদর্শ স্বামী

 

[লেখায় কারও অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আওয়ার বাংলাদেশকে দোষারোপ না করার বিশেষ অনুরোধ থাকবে]

Sharing is caring!