আদর্শ স্বামী : প্রথম পর্ব

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২০, ২০২০
আদর্শ স্বামী : প্রথম পর্ব

উম্মে হাবিবা সাইমা ( চট্টগ্রাম)

 

আওয়ার বাংলাদেশ: মাহিন ও মারিয়া স্বামী স্ত্রী। তাদের বিয়ে গত ৭বছর আগে হয়েছিল। তাদের একটি ৫বছরের ছেলে রয়েছে। ছেলেটির নাম আরিয়ান। মারিয়া আধুনিক টাইপের মেয়ে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চায়। ইসলামিক কোনো জ্ঞান তার মাঝে নাই। সে ইংরেজিতে মার্স্টাস করেছে। অন্যদিকে মাহিন একটা অফিসে জব করে।  ইসলামিক বিধি-বিধানগুলো মেনে চলার চেষ্টা করে। আস্তে আস্তে সে মেনে চলছে আর মারিয়াকে ও মেনে চলার জন্য চাপ দিচ্ছে। মারিয়া মানতে চায় না। ইসলামিক জ্ঞান না থাকার কারণে সে যুগের আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে চলাকে ভালো মনে করে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে না চললে মানুষ কি ভাববে এই কারণে সে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চায়।

এমনই একদিন মাহিন, মারিয়া আর তাদের ছেলে আরিয়ান বেড়াতে যাওয়ার প্লান করে। বেড়াতে যাওয়ার দিনও ঘনিয়ে এসেছে। মাহিন রেডি হয়ে মারিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে ড্রয়িং রুমে।

মারিয়া সিড়ি বেয়ে নিচে নামতেছে। এমন সময় মাহিনের চোখ গেলো মারিয়ার দিকে। সে মারিয়াকে দেখে চড়কগাছ। মারিয়াকে এভাবে দেখবে সে আশা করে নি। মারিয়াকে দেখার সাথে সাথে সে দাড়িয়ে যায়। মারিয়া নিচে নেমে মাহিনের কাছে আসে আর বলে এবার চলো আমি রেডি। মাহিন মারিয়াকে বলল-
তুমি এইভাবে বেড়োবে। এরকম করে শাড়ি পড়ে বোরকা গায়ে না দিয়ে সেজেগুজে বাইরে যাবে?মারিয়া বলল, অবশ্যই। কোনো সমস্যা?
মাহিন বলল,সমস্যা তো আছেই। তুমি কি জানো না মুসলিম মেয়েদের পর্দা করে চলতে হয়। যাতে পর-পুরুষরা মেয়েদের সৌন্দর্যকে দেখে উপভোগ কর‍তে না পারে। আর তুমি কিনা এইভাবে সেজেগুজে শাড়ি পড়ে বাইরে যাবে লজ্জা করে না তোমার। তোমার দেহের সৌন্দর্যকে পরপুরুষরা গ্রাস করবে।নিজেও গোনাহগার হবে আর তাদের ও গোনাহগার বানাবে। তোমার কি কোনো জাহান্নামের আজাবের ভয় নেই। তোমার মাথায় হিজাব পর্যন্ত নাই। যাও পর্দা করে আসো ।মারিয়া ধমকের সুরে বলল,তুমি না একটা আনকালচারড। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে না চললে মানুষ কি বলবে।

মাহিন মারিয়াকে পর্দা করতে বলায়,মারিয়া মাহিনকে বলে, “এটা হচ্ছে আধুনিক যুগ। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে না চললে লোকে কি বলবে। তুমি না একটা আনকালচারড। কিচ্ছু বুঝ না।

তখন মাহিন বলে,”আমি কিচ্ছু বুঝি না তুমি সবকিছু বুঝ তাই। বেহায়ার মতো চলাফেরা করো আর বলো আমি কিচ্ছু বুঝি না। আমি বুঝি না বুঝি না ফেক্ট না। তোমার পর্দা করতে হবে এটাই ফেক্ট। আমি তোমাকে যুগের আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বলতাম। যদিওবা তুমি না চললেও। এখন তো বলতে পারবো না। কারণ বেপর্দা চললে নারীর গোনাহ হয়। এতে যে নারী বেপর্দায় চলে সে তো গোনাহগার হবে আর তার সাথে তাকে যারা দেখছে তাদের ও গোনাহগার হতে হবে। তুমি জাহান্নামে যাবে সেইসাথে অন্যজনকেও নিয়ে যাবে। তারাতো তোমার জন্য শাস্তি পাবে,তাদের শাস্তি ও তোমাকে পেতে হবে।

তখনি মারিয়া বলে উঠল,”তাদের জন্য কেনো আমি তাদের শাস্তি ভোগ করবো। আমি তো তাদের আর আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে বলি নাই। শুধু শুধু তাদের জন্য কেনো তাদের শাস্তি ভোগ করবো। কাব্য বলে,”তুমি যদি তাদের সামনে সেচ্ছায় না যেতে তাহলে কি তারা দেখতে পারতো? কখনো না। তুমি যাবে বলে তারা দেখবে,তারা তোমার কাছে এসে এমনি এমনি তো আর দেখছে না। বিড়ালের সামনে যদি ভাজা মাছ রাখা হয় বিড়াল কি সেটা দেখবে না, নাকি দেখে না দেখার ভান করবে, সামনে মাছ থাকলে কি সেটা না খেয়ে রেখে দেবে? কোনদিনই না। তেমনি মেয়ে যদি বেপর্দায় পরপুরুষের সামনে যায় পরপুরুষরাতো অবশ্যই দেখবে। মানুষ হচ্ছে সুন্দরের পুজারী। সুন্দর কিছু দেখলে সেটার প্রতি আরো দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। সুন্দর সবকিছুর নজর কাটে। তোমাকে যদি দুইটি জিনিস দেওয়া হয়,তন্মধ্যে একটি সুন্দর আরেকটি কুৎসিত সেখান থেকে তুমি কোনটা নিবে? অবশ্যই সুন্দরটা তাই না। তখনি মারিয়া বলে,সুন্দরটাতো অবশ্যই নেবো। কুৎসিত টা দিয়ে কি করবো। মাহিন বলে,এটা কি বুঝতে পেরেছো?

মারিয়া বলল এটা তো সিম্পল বিষয় বুঝবো না কেনো। আর কতক্ষণ লেকচার দেবে। এসব লেকচার আমার আরর ভালো লাগছে না। বেরোব কবে। দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।  এবার চলো।

 

চলবে….

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন আগামীকাল ঠিক  এই সময় পর্যন্ত

 

[লেখায় কারও অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আওয়ার বাংলাদেশকে দোষারোপ না করার বিশেষ অনুরোধ থাকবে]

Sharing is caring!