আদর্শ স্বামী: চতুর্থ পর্ব

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৩, ২০২০
আদর্শ স্বামী: চতুর্থ পর্ব
  • উম্মে হাবিবা সাইমা ( চট্টগ্রাম)

তৃতীয় পর্বের পর….

আর সকল সুন্নাত কাজে বরকত রয়েছে। কারণ এটা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর কাজ। আর হযরত মুহাম্মদ (সঃ) যে কাজগুলো করেছেন সেগুলো সুন্নত নামে পরিচিত। আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল- কুরআন। আল -কুরআনের যা কিছু আছে তা অতীতে হয়েছিলো,বর্তমানে হচ্ছে আর ভবিষ্যতে হবে। কেউ চাইলে এটা অস্বীকার করতে পারবে না। ইতিহাসে এমন অনেকজন পাদ্রী আছে যারা কুরআনের আয়াতকে ভিন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু পারে নি। পারবেও না। মহান আল্লাহ তায়ালা ১৪০০ বছর আগে কুরআনে যেটা বলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে তার হুবহু ব্যাখ্যা পেয়েছেন।এরকম অনেক বিজ্ঞানী কুরআনের আয়াতকে পরীক্ষা করতে গিয়ে নিজেরাই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আর আমরা কিনা জন্মগতভাবে মুসলিম হয়ে দ্বীনের পথে থাকি না।আমাদের জন্য দুনিয়ার আধুনিকতায়য় সবচেয়ে বড় হয়ে গেছে। অথচ ইসলামে রয়েছে শ্রেষ্ঠ আধুনিকতা, রোমান্টিকতা।

কিন্তু আমরা ইসলাম সম্পর্কে ভালোভাবে না জানার কারণে আমরা দুনিয়ার আধুনিকতাকে অনেক বড় মনে করি। আর যদি কেউ দুনিয়ার আধুনিকতা না চলে ইসলামের আধুনিকতায় চলে তাইলে তাকে নিয়ে আমরা অনেক হাসি ঠাট্টা করি। সেও ইসলামের আধুনিকতায় চলার কারণে নানাভাবে হাসি-ঠাট্টা পাত্র হয়। মানুষের মনে শয়তান ওয়াস ওয়াসা দেওয়ার জন্য সবসময় সুযোগ খুজে। শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার পায়তারায় থাকে। আর যারা নিজেকে সম্মান দিতে জানে না। তারাই শয়তানের দেওয়া পথ অনুসরণ করে। শয়তান সরাসরি আমাদের ধোঁকা দিতে পারে না। নফস বলে একটা জিনিস আছে ।আমরা সেটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে শয়তান আমাদের ধোঁকা দিতে পারে না। যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারি তাইলে শয়তান আমাদের ধোঁকা দিতে পারে। যারা নিজেদের সস্তা মনে করে। তারাই দুনিয়ার আধুনিকতায় জীবন কাটাতে চায়, আর কাটাইও। যখন বুঝতে পারে তখন আফসোস করে। তখন তাদের আফসোসের শেষ থাকে না। কেনো আগে বুঝলাম না। কেনো ইসলামকে মেনে চলি নাই। এতো সুষ্ঠ, সুন্দর, শান্তির ধর্মের বিধানকে কেনো জানতে চাই নি। কেনো দুনিয়ার মোহে আকৃষ্ট ছিলাম।

দুনিয়ার মোহে আকৃষ্ট থেকে কই আমি তো কিছুই পাই নি।পেয়েছি শুধু হতাশা,বিগ্রহ,দ্বন্দ ইত্যাদি…। সময় থাকতে নিজেকে শুধরিয়ে নাও। না হলে মৃত্যুর পর তোমাকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। দুনিয়ার সামান্য আগুনে পুড়ে গেলে তুমি তা সহ্য করতে পারো না,সেখানে জাহান্নামের আগুন কিভাবে সহ্য করবে। জাহান্নামের আগুন তো দুনিয়ার আগুনের চেয়ে ৭০গুণ বেশি। কি পারবে কি সহ্য করতে? জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে নাহিদ আশিকদের দিকে তাকায়। সে দেখতে পাই তাদের চোখে পানি টলমল করছে। একি তোমাদের কাঁদার মতো অবস্থা হয়েছে কেনো? আমার কথায় কি তোমরা কোনো কষ্ট পেয়েছো?

 

তখন তারা সবাই একসাথে বললো,  আমরা আপনার কথায় কষ্ট পাবো কেনো?  আপনি আমাদের মনের কালো পর্দাটা সরিয়ে দিয়েছেন। আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পারছি। দুনিয়ার মোহে পড়ে আমরা যে কতবড় ভুল করেছি তা আজ হারে হারে টের পাচ্ছি। আমরা কেনো আগে বুঝতে পারি নাই?কেনো এতোটাই দুনিয়ার মোহে বিভোর ছিলাম। সবসময় শয়তানের ইশারায় করা কাজ করেছি। শান্তির ধর্ম ইসলামকে বোঝার চেষ্টা করে নাই। এই পাপী বান্দাদেরকে কি আদৌ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন? বলেন না….?

নাহিদ বললো,আল্লাহ গাফফার। তিনি ক্ষমাশীল। অবশ্যই তিনি তাঁর পাপী বান্দাদের ক্ষমা করবেন।আমাদের ক্ষমা চাইতে দেরি কিন্তু তিনি মাফ করতে দেরি করে না, যদি পাপী বান্দা অনুশোচনায় পড়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাই তাহলে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ্‌র কাছে সরল দিলে, মন যদি আল্লাহকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়, আল্লাহকে পাওয়ার জন্য তিনি ও তাঁর রাসুলের (সঃ)বিধান অনুযায়ী জীবন যাপণ করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন।
শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না। দুনিয়াবি কাজগুলো থেকে বিরত থাকবে বলে ওয়াদা করে নিতে হবে। এই ভয়ে হলেও রং তামাশা থেকে বিরত থাকা যাবে। ওয়াদা ভঙ্গকারী মুনাফিকের কাতারে যাবে।

-“আর নিশ্চয়ই মুনাফিকের স্থান জাহান্নামের নিম্ন স্তরে”

সবসময় আল্লাহ্‌র ভয়ে থাকতে হবে। তবেই নিজেকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে। কোনো কাজ করার আগে কয়েকবার ভেবে দেখবে, কাজটা কি আমার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য মঙ্গলজনক হবে। নাকি না?  এরকম করে ভাবলে দেখবে আস্তে আস্তে খারাপ কাজ থেকে বিরত হয়ে আছো।

আচ্ছা আমি তোমাদের তুমি করে বলাতে কি তোমাদের খারাপ লাগতেছে। যদি খারাপ লাগে বলো।আমি চাই না কেউ আমার জন্য কষ্ট পাক। তখন আশিক বলল, না, আমাদের খারাপ লাগবে কেনো? বরং ভালো লাগতেছে। আর আমরা তো আপনারই ছোট। তুমি করেই বলুন। আপনি আমাদের সঠিক পথে নেওয়ার সঙ্গী। আপনার কারণে আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি।

নাহিদ বললো,আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়াত দান করেন আর যাকে ইচ্ছা তাকে করেন না।আর সবগুলো আমাদের কর্মের উপর নির্ভর। দুনিয়াতে যে যেমন কাজ করবেন আখিরাতে সে তেমন ফল ভোগ করবেন। তুমি যদি দুনিয়াতে ভালো কাজ করো তাহলে আখিরাতে ভালো ফল হিসেবে জান্নাত পাবে। আর মন্দ কাজ করলে আখিরাতে ফল হিসেবে জাহান্নামে প্রয়োগ করা হবে। সর্বাবস্থায় তোমাদের মনে আল্লাহ্‌র ভয় থাকতে হবে। তবেই তোমাদের নিজেদেরকে পাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে। সবসময় একটা কথা মনে রাখবে তোমরা গোপনে বা লোকচক্ষুর আড়ালে,প্রকাশ্যে যা কিছু করো না কেনো সব কিন্তু আল্লাহ তায়ালা দেখছেন। আমাদের সবার দুই কাধে দুইটা ফেরেশতা রয়েছে। তারা আমাদের কাজগুলো আমাদের আমলনামায় লিপিবদ্ধ করে রাখছেন। কিয়ামতের দিন আমাদের আমলনামা আমাদেরকে পড়তে দেওয়া হবে। মহান আল্লাহ তায়াল কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নিবেন। তারপর আস্তে আস্তে অন্যান্যগুলো। কেউ হিসাব দেওয়া ছাড়া এক চুল পরিমাণ ও নড়তে পারবে না। সেদিন সবাইকে যুবক-যুবতীতে পরিণত করবেন আর যৌবনের হিসাব নিবেন।

সবসময় একটা কথা মনে রেখ, যৌবনের ইবাদত বৃদ্ধা অবস্থার ইবাদতের চেয়েও উত্তম। তাই যৌবনে যত বেশি পারা যায় তত বেশি ইবাদত করো। যখন কোনো কাজ ও ইবাদত এক সাথে হয়, তাহলে তুমি ইবাদতকে বলবে না তোমার কাজ আছে বরং কাজকে বলবে তোমার ইবাদত আছে। তাহলে দুনিয়ার কাজ তোমাকে কিছু করতে পারবে না। আস্তে আস্তে তোমার থেকে দুনিয়ার মোহ চলে যাবে। প্রথমে তোমার মনকে ঠিক রাখতে হবে তারপর অন্যকিছু। আর হ্যা তোমরা এখন যে পোষাক পড়েছো এটার জন্য তোমাদের জাহান্নামে যেতে হবে।

“পুরুষের ছতর নাভি থেকে পায়ের টাকনুর আগ পর্যন্ত”

এর থেকে বেশি আবার কম ও না। এখন অনেকেই ফ্যাশন হিসেবে টাখনুর নিচে পড়ে আবার অনেকে হাটুর আগ পর্যন্ত বা এর একটু নিচে। কিন্তু সেটা হলে হবে না। ছতর যতটুকু ততটুকু ঢেকে রাখতে হবে। অন্যথায় এর চেয়ে বেশি বা কম হলে জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে। এটা নিয়ে আমাদের নবী করীম হযরত মুহাম্মদ (সঃ)এর একটি হাদিস আছে।আর সেটা হলো-
“পুরুষের টাখনুর নিচের যে অংশ লুঙ্গি বা পায়জামা দ্বারা ঢাকা থাকবে সে অংশ জাহান্নামে যাবে”

-সহীহ বুখারী

ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চললে ভালো আর মেনে না চললে ক্ষতি। অনেকে আজ নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন। কেনো জানো? একমাত্র ইসলাম সম্পর্কে না জানার ও না মানার কারণে। যারা ইসলাম মানে না তারা অনেক সময় সমস্যার সমাধান পায় না। যদিও পায় তবে সেটা বেশিদিন যৌক্তিক হয় না।

 

আর তুমি যে বলেছিলে,এই মেয়েটিকে ভালোবাসো এটা কি সত্যিই? আশিক মাথা চুলকাতে বলতেছে, আসলে ভাই এই মেয়েটিকে আমার অনেকদিন আগে থেকে ভালো লাগে। ইনফ্যাক্ট ভালোবেসে পেলেছি। বলবো বলবো বলে বলা হয় নি। আজকে আপনার জন্য বলতে পেরেছি।

আতিকা লাজুক দৃষ্টিতে এতোক্ষণ আশিকের দিকে তাকিয়ে ছিলো যখন নাহিদ আশিককে প্রেমের কথা বলে। যখন আতিকার সাথে আশিক প্রেম করে এই কথাটি শোনার পর থেকে লজ্জায় মাথা নিচু করে পেলে। তখন তাদেরকে নাহিদ যা বললো তা শুনে উভয়েই পায়ের নিচ থেকে যেনো মাটি সরে যাচ্ছে এই অবস্থায় হয়ে যায়।

আসলে আতিকাও আশিককে পছন্দ করে। তবে কখন যে প্রেমে পড়েছে সে নিজেও জানে না। তাই তো প্রত্যেকদিন আতিকা সেজেগুজে বেহায়ার মতো রাস্তা বের হয়। যেনো আশিকের নজর কাটতে পারে। আজকে এই রকম একটা কথা শুনতে হবে তারা কখনো ভাবে নি।

নাহিদ বলেছিল,তোমরা কি জানো বিয়ে বর্হিভূত প্রেম অবৈধ। আর অবৈধ হচ্ছে হারাম। যারা এটাতে জড়িত আছে কিন্তু এখনো বের হয় নি,আর এই হারাম কাজের জন্য অনুতপ্ত হয় নি,আল্লাহ্‌র কাছে এই পাপ থেকে বাঁচার জন্য ক্ষমা চাইনি ,তাদের জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। সময় থাকতে নিজেকে সংশোধন করে নাও।

চলবে…..

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন আগামীকাল ঠিক এই সময় পর্যন্ত

প্রথম পর্ব: আদর্শ স্বামী

দ্বিতীয় পর্ব: আদর্শ স্বামী

তৃতীয় পর্ব: আদর্শ স্বামী

[বিলম্ব হওয়ায় পাঠকদের কাছে আওয়ার পরিবার দুঃখ প্রকাশ করছি এবং পরবর্তী পর্বগুলো সথাসময়ে পাবলিশ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। পরিশেষে আওয়ার পরিবার আপনাদের সকলের সার্বিক কল্যাণকামী]

[লেখায় কারও অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আওয়ার বাংলাদেশকে দোষারোপ না করার বিশেষ অনুরোধ থাকবে]

Sharing is caring!