অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শিবপুর উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক অভিযান

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শিবপুর উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক অভিযান

তানিম ইবনে তাহের
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি:

নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ¦ জহিরুল হক ভূইয়া মোহন এর রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা এবং স্থানীয় জনসাধারনের দুর্ভোগ লাগবের নিমিত্তে ও তার ঐকান্তিক সমর্থনে এবং নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন এর নির্দেশনায় ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার শিবপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. হুমায়ূন কবীরের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পারিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে প্রায় ১৫টির ও বেশি বালু উত্তোলন করার মেশিন জব্দ করে অগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপস্তিত ছিলেন শিবপুর মডেল থানার এসআই মিজান ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্স,সাংবাদিক এবং দুলালপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের সদস্যগণ ।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ও মাছিমপুর ইউনিয়নে অবাধে চলছে ফসলি জমি খনন করে ৮০/৯০ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার ঘরবাড়ীসহ, স্কুল, মাদ্রাসা, ফসলিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। গ্রামের বেশির ভাগ কৃষি জমিতে স্যালু মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে কয়েকটি প্রভাবশালী মহল। গ্রামবাসীর কান্নার একমাত্র কারণ এখন বালু উত্তোলন। ফসলি জমি, বসতভিটাসহ রাস্তা-ঘাট, কবরস্থান, স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসা দিন দিন পুকুরগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ লোকজন কোন রকম ঠাই পেতে জীবনের ঝুকি নিয়ে পুকুরের পাড়ে বসবাস করছে। কিন্তু পুকুর থেকে এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পুকুরের গভীরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে দিনদিন ভয়ংকর রুপ ধারণ করছে পুকুর। প্রায় সময় হঠাৎ করে রাস্তা, বসতবাড়ী, পুকুরগর্ভে চলে যাচ্ছে। এখন লোকজন রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় পায় কখন জানি কোথায় থেকে পুকুর গর্ভে চলে যায়।
সূত্রে জানা যায়, বালু ব্যবসায়ীরা শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে কতিপয় ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের আশীর্বাদ পুষ্ঠ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে অবাধে বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলনকারীরা প্রথমে অল্প একটু জমি ক্রয় করে এবং সেই জমি থেকে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা শুরু করে। পরে আস্তে আস্তে আশেপাশের সকল আবাদী জমিতে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলে বাধ্য হয়ে তাদের কাছে জমি বিক্রয় করতে হয়। এমনকি কারোর কারোর শেষ সম্বল বসতভিটা পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে। প্রভাবশালী সিন্ডেকেটের কারণে বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। তারা এলাকার সহজ সরল জমির মালিকদের বিভিন্ন কৌশলে বালু বিক্রয় করতে বাধ্য করে গোটা এলাকা দখলে নিয়ে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এলাকাবাসী কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ¦ জহিরুল হক ভূইয়া মোহন জানান, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত নিপীড়িত হচ্ছে। আমার সময়কালে আমি চাইনা তারা এভাবে নিপীড়নের স্বীকার হউক। তাই বালু উত্তোলনকারীদের কে চিহিৃত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগীতা থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হুমায়ূন কবীর জানান, পরিবেশ বিপন্নকারী এই অনিষ্ট স্থায়ীভাবে রোধ করতে এবং অসহায় দরিদ্র মানুষজনকে সবতবাড়িহারা, বাস্তুহারা হবার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভুমিদস্যুদের হাত থেকে নিপীড়িত জনসাধারণকে মুক্ত করার লক্ষ্যে তাদের প্রতি উপজেলা প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি থাকবে।

Sharing is caring!