অবশেষে লামার বিতর্কিত ইউএনও কে বদলী

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুলাই ১৩, ২০২০
অবশেষে লামার বিতর্কিত ইউএনও কে বদলী

আলমগীর ইসলামাবাদী 

(বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম জেলা)

অবশেষে লামার বিতর্কিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর এ জান্নাত রুমীকে বদলী করা হয়েছে। স্বামীকে তালাক দিয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রি করে আলোচনায় আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর এ জান্নাত রুমীকে রাষ্ট্রপ্রতির আদেশক্রমে গতকাল রবিবার লামা বিভাগীয় কমিশনার রংপুর কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য: লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর এ জান্নাত রুমী লামাসহ পুরো জেলায় আলোচিত এক নাম। নিজের স্বামীকে তালাক এবং স্বামীর বিরুদ্ধে জিডি করে আলোচনার ঝড় তুলেছিন তিনি। ভালবেসেই হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিষ্টার এটিএম ওমর ফারুককে বিয়ে করেন। ভালোই চলছিল তাদের সংসার।

এটিএম ওমর ফারুককের অভিযোগ রুমির পরকীয়া আসক্তিই শেষ করেছে সব। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে লামা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সের এক ডাক্তারের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে রুমির। এর পর থেকে সংসারে সৃষ্টি হয় ঝামেলার। তবে রুমির বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক ঘুষ গ্রহণসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি। অভিযোগ রয়েছে লামার ফাইতং এলাকায় অর্ধশতাধিক ইটভাটা অবৈধভাবে চলছে বছরের পর বছর। আর ইউএনও রুমি ইটভাটা থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে তাদের এই অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন।

অবৈধ উপার্জনে প্রতি মাসে নতুন স্বর্ণংকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে স্বামীর বিরুদ্ধে রুমির অভিযোগের কমতি নেই। রুমি স্বামীর বিরুদ্ধে করা জিডিতি উল্লেখ করেন সাংসারিক মনোমালিন্য এবং কর্মস্থলে অন্যায়ভাবে প্ররোচিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রলোভনপূর্বক হুমকি ধামকি প্রদর্শন করায় এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে গত ২৪ জুন রাতে আমার স্বামী এটিএম ওমর ফারুককে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক মৌখিকভাবে তালাক দেই। এতে সে ক্ষুদ্ধ ও উত্তেজিত হয়ে আমাকে হত্যা করবে অথবা নিজে আত্মহত্যা করে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। পরে ৬ জুলাই আমি তাকে ডাকযোগে রেজিস্টার্ড এডি সহকারে তালাকনামা প্রদান করি। তালাকনামা পেয়ে ৭ জুলাই সকাল ১০টার দিকে সে আমার লামা উপজেলা সরকারি বাসভবনে এসে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে আমি প্রতিবাদ করলে সে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারতে আসে এসময় আমার চিৎকার শুনে ঘরের কাজের বুয়া সেখানে উপস্থিত হলে কোনো রকম প্রাণে বেঁচে আমার সন্তানকে নিয়ে অন্যরুমে চলে যাই।

জিডিতে আরও উল্লেখ করেন, পরে সে সময় সুযোগ বুঝে আমাকে মেরে পঙ্গু করবে নিজে আত্মহত্যা করে আমাকে ফাঁসাবে এমন হুমকি দিয়ে চলে যায়। সে আমার সন্তান রাহিবকে জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে লুকিয়ে রেখে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা করবে বলেও হুমকি দেয়। তাই এ অবস্থায় আমার সন্তানকে বাসায় রেখে কর্মস্থলে যোগদান করা ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং আমি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

Sharing is caring!