অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ১৫, ২০২০
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

মোঃ ইসমাইল (বিশেষ প্রতিনিধি):
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক, বাংলাদেশের প্রতিভাবান শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল ৪:৫৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাঃস ত্যাগ করেন।

বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সেখানে চিফ কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. খন্দকার কামরুল ইসলামের অধীনে চিকিৎসা নেন তিনি। এরপর গত ৯ মে সেখান থেকে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ড. আনিসুজ্জামান বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে নানা সফলতা অর্জন করেছেন। দেশের গুণি এ শিক্ষক ২০১৪ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ পেয়েছিলেন।

তিনি মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলা একাডেমীর বৃত্তি ছেড়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। একসময় তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে গবেষণা বৃত্তি পান।

এর কয়েক মাস পর আবার যোগ দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায়। ১৯৬২ সালে তার পিএইচডি শেষ হয়।

তিনি ১৯৬৪ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেন ডক্টরাল ফেলো হিসেবে বৃত্তি পেয়ে। ১৯৬৯ সালের জুন মাসে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

পরে তিনি ভারতে গিয়ে, প্রথমে শরণার্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তারপর বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগ দেন।

১৯৭৪-৭৫ সালে কমনওয়েলথ অ্যাকাডেমি স্টাফ ফেলো হিসেবে আনিসুজ্জামান লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে গবেষণা করেন। জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-প্রকল্পে ও অংশ নেন ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। ১৯৮৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন ২০০৩ সালে। পরে তিনি আবার সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত হন।

এছাড়াও তিনি নজরুল ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি শিল্পকলা বিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা যামিনী এবং বাংলা মাসিকপত্র কালি ও কলম-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আনিসুজ্জামান প্রত্যক্ষভাবে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে ১৯৫০ সাল থেকে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। মুজিবনগরে তিনি তাজউদ্দীনের বিচক্ষণ কর্মকাণ্ড সরেজমিনে কাছ থেকে দেখেছেন।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেও তার ছিলো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ভাষা আন্দোলন, রবীন্দ্র উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলন, রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।

Sharing is caring!